মৃত্যু—মানুষের জীবনের সবচেয়ে অনিবার্য সত্য। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ জানতে চেয়েছে, মৃত্যুর আগে কি শরীর কোনও ইঙ্গিত দেয়? আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ—উভয়ই বলে, শেষ সময়ের আগে শরীর ও মস্তিষ্কে কিছু সাধারণ পরিবর্তন দেখা যায়। যদিও এগুলো নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়, তবু শেষ দিনগুলোতে বহু মানুষের ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
গবেষণা কী বলছে
চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের শেষ পর্যায়ে শরীর ধীরে ধীরে তার জৈবিক কার্যকলাপ কমিয়ে আনে। শক্তি সংরক্ষণের জন্য শরীর এক ধরনের “এনার্জি সেভিং মোড”-এ চলে যায়। এর প্রভাব পড়ে ক্ষুধা, শ্বাস-প্রশ্বাস, চেতনা এবং দৈনন্দিন আচরণে।
নিচে মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে দেখা যেতে পারে—এমন ৫টি সাধারণ সংকেত তুলে ধরা হল।
১) ক্ষুধা ও তৃষ্ণা কমে যাওয়া
শেষ পর্যায়ে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে খাবার বা জল নেওয়ার ইচ্ছা কমে আসে। এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া—কারণ তখন অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন পড়ে না।
২) জৈবিক কার্যকলাপের হ্রাস
হৃদস্পন্দন, রক্তসঞ্চালন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।
৩) শ্বাস-প্রশ্বাসে পরিবর্তন
শেষ দিনগুলোতে শ্বাসের ছন্দ বদলে যায়। কখনও দ্রুত, কখনও ধীর—একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে শেইন–স্টোকস শ্বাস-প্রশ্বাস বলা হয়। অনেক সময় গলা থেকে বিশেষ ধরনের শব্দ শোনা যায়, যাকে বলা হয় ‘ডেথ র্যাটল’।
৪) চেতনা ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন
মৃত্যুর আগে মানুষ অনেক সময় ঘুমঘুম ভাব, বিভ্রান্তি বা পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতিতে ভোগেন। কথাবার্তা কমে যেতে পারে, প্রিয়জনদের সঙ্গেও যোগাযোগ হ্রাস পায়।
৫) সামাজিক ও আবেগগত সরে যাওয়া
শেষ পর্যায়ে ব্যক্তি ধীরে ধীরে বাইরের জগত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। একা থাকতে চাওয়া, কম কথা বলা—এগুলোও সাধারণ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
পুরাণের দৃষ্টিভঙ্গি
গরুড় পুরাণ ও শিব পুরাণে মৃত্যুর আগাম লক্ষণের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মৃত্যুর কয়েক দিন বা এক সপ্তাহ আগে থেকেই শরীর ও মন ধীরে ধীরে তাদের পার্থিব সংযোগ ছিন্ন করতে শুরু করে। যদিও এগুলো আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই মিল পাওয়া যায়।
চূড়ান্ত কথা
মৃত্যুর লক্ষণ নিয়ে আলোচনা আকর্ষণীয় হলেও মনে রাখা জরুরি—এই পরিবর্তনগুলি রোগ, বার্ধক্য বা অন্য কারণেও হতে পারে। তাই এগুলোকে কখনওই নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং শেষ সময়ে রোগী ও পরিবারের জন্য সহানুভূতি, যত্ন এবং মানসিক সমর্থনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.