রাজ্যের সরকারি কর্মীদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ সংক্রান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন। নতুন সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ঘিরেও সেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে বৈঠক শেষে স্পষ্ট হয়ে যায়, আপাতত ডিএ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এর পরিবর্তে রাজ্য সরকার সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, নতুন বেতন কমিশন গঠনের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও কমিশনের কার্যপদ্ধতি বা বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিনের বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত বিভিন্ন সরকারি অনুদানমূলক প্রকল্প নিয়ে। সরকার জানিয়েছে, তথ্য ও সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনে চলা ধর্মভিত্তিক কিছু প্রকল্প আগামী জুন মাস থেকে বন্ধ করা হবে। কোন কোন প্রকল্প এই তালিকায় রয়েছে, তা পরবর্তীতে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে দক্ষতা উন্নয়ন বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচিগুলি চালু থাকবে বলেও স্পষ্ট করেছে সরকার।
অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহিলাদের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই প্রকল্পে প্রতি মাসে মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে। পূর্বের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি, যাঁরা আগে কোনও কারণে এই সুবিধা পাননি, তাঁরাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত পোর্টাল চালু করা হবে।
সরকার আরও জানিয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় আবেদনকারীরা কিংবা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করা ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
মন্ত্রিসভায় মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সিদ্ধান্তেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের সরকারি বাসে মহিলাদের কোনও ভাড়া দিতে হবে না। স্বল্প দূরত্ব বা দূরপাল্লা— উভয় ক্ষেত্রেই এই সুবিধা কার্যকর হবে। যদিও আপাতত বাসের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে না বলে সরকার জানিয়েছে। পরবর্তী বাজেটের পরে নতুন বৈদ্যুতিক বাস কেনার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিয়ে আদালতের নির্দেশ মেনে নতুন করে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাজ্যের ওবিসি তালিকা পুনর্বিবেচনা, সংরক্ষণের হার এবং উপশ্রেণিবিভাগ সংক্রান্ত বিষয় নতুনভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলে মন্ত্রিসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন সংক্রান্ত পরিষেবার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তা সংস্কার, আলো মেরামত, আবর্জনা পরিষ্কারসহ নাগরিক পরিষেবাগুলি যাতে দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্পত্তি করের বর্তমান হার অপরিবর্তিত থাকবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.