সনাতন ধর্মে শঙ্খের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীনকাল থেকেই যেকোনও পূজা, যজ্ঞ কিংবা ধর্মীয় আচার শঙ্খধ্বনি ছাড়া অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। শঙ্খ শুধুমাত্র একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং এটি শক্তি, শুদ্ধতা ও ঐশ্বরিক উপস্থিতির প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, শঙ্খের ধ্বনি যেখানে পৌঁছায়, সেখানে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে এবং দেবী লক্ষ্মীর কৃপা বর্ষিত হয়।
শাস্ত্র মতে, শঙ্খের উৎপত্তি হয়েছে শঙ্খভোজী প্রাণীর হাড় থেকে, যার ফলে একে অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য করা হয়। ভগবান বিষ্ণুর অন্যতম প্রধান অস্ত্র হল শঙ্খ, আর তাই বৈষ্ণব ধর্মে এর গুরুত্ব আরও বেশি। সমুদ্র মন্থনের সময় যেসব ঐশ্বরিক বস্তু উঠে এসেছিল, তার মধ্যেই ছিল দেবী লক্ষ্মী এবং দক্ষিণাবর্তী শঙ্খ। সেই কারণেই শঙ্খকে লক্ষ্মীর ভ্রাতা বলা হয়।
শঙ্খ মূলত দুই প্রকার— বামাবর্তী ও দক্ষিণাবর্তী। এর মধ্যে দক্ষিণাবর্তী শঙ্খ অত্যন্ত দুর্লভ ও শুভ বলে বিবেচিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই শঙ্খে বহু দেবতার বাস। শঙ্খের শীর্ষে চন্দ্রদেব, মধ্যভাগে বরুণ দেবতা, পশ্চাতে ব্রহ্মা এবং সম্মুখভাগে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী দেবীর অবস্থান। তাই একে ঘরে স্থাপন করলে দেবতাদের আশীর্বাদ লাভ হয় বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন:Vastu: ঈশান কোণে ভুল জিনিস রাখলেই নষ্ট হতে পারে সংসারের সুখশান্তি
আরও পড়ুন:Vastu: বাস্তুশাস্ত্র মতে উত্তর-পূর্ব কোণে এই ৪ গাছ লাগান, খুলবে সমৃদ্ধির দরজা
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে উল্লেখ রয়েছে, শঙ্খের মধ্যে দেবতাদের বাস থাকায় এটি পূজার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপকরণ। শঙ্খের জলে স্নান করলে সমস্ত তীর্থস্নানের সমান পুণ্য লাভ হয়। সেই কারণেই মন্দিরে আরতির পর শঙ্খের জল ভক্তদের মাথায় ছিটিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:Vastu: সিন্দুকের সঠিক দিকেই লুকিয়ে আর্থিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি
শঙ্খধ্বনির বৈজ্ঞানিক দিকও উল্লেখযোগ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, শঙ্খের ধ্বনি পরিবেশের ক্ষতিকর জীবাণু নষ্ট করতে সক্ষম। ফলে এটি শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক নয়, স্বাস্থ্যকর দিক থেকেও উপকারী। শঙ্খকে তাই বিজয়, শুদ্ধতা ও ইতিবাচক শক্তির প্রতীক বলা হয়।
আরও পড়ুন:Vastu: ঠাকুরঘর কেমন হওয়া উচিত? জানুন আদর্শ গঠন ও নিয়ম
মহাভারতের যুদ্ধে শঙ্খধ্বনির বিশেষ ভূমিকা ছিল। শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পঞ্চজন্য শঙ্খ বাজান, অর্জুন বাজান দেবদত্ত, ভীম বাজান পৌণ্ড্রক, যুধিষ্ঠির বাজান অনন্তবিজয়, নকুল বাজান সুঘোষ এবং সহদেব বাজান মণিপুষ্পক শঙ্খ। এই শঙ্খনাদ যুদ্ধের সূচনা ও ধর্মের জয় ঘোষণা করেছিল।
এই কারণে আজও বিশ্বাস করা হয়, যেখানে শঙ্খ বাজে, সেখানে অশুভ শক্তির প্রবেশ ঘটে না এবং দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় ঘরে আসে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.