মানুষের শরীরে থাকা জন্মদাগ বা জন্মচিহ্ন নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। কেউ একে নিছক ত্বকের স্বাভাবিক দাগ বলে মনে করেন, আবার শাস্ত্রবিশ্বাসী মানুষদের মতে এই জন্মদাগের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ব্যক্তিত্ব, ভবিষ্যৎ এবং ভাগ্যের নানা ইঙ্গিত। প্রাচীন সামুদ্রিক শাস্ত্র ও জ্যোতিষশাস্ত্রে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে থাকা জন্মচিহ্নের আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, যা মানুষের জীবনের ওঠানামা, স্বভাব এবং মানসিক গঠন সম্পর্কে ধারণা দেয়।
জন্মদাগ সাধারণত লাল, কালো কিংবা বাদামি রঙের হয়ে থাকে এবং আকারেও ভিন্ন হতে পারে। শাস্ত্র মতে জন্মদাগ কখনও শুভ ফল দেয়, আবার কখনও জীবনের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তাও বহন করে। তাই জন্মদাগ থাকা মানেই অশুভ—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আসল গুরুত্ব রয়েছে জন্মদাগটি শরীরের কোন অংশে অবস্থান করছে, তার ওপর।
শাস্ত্র মতে যাঁদের মুখে জন্মদাগ থাকে, তাঁরা সাধারণত খুবই আবেগপ্রবণ স্বভাবের হন। এঁরা মন দিয়ে সব কিছুর বিচার করেন এবং অন্যের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারেন। কথা বলতে ভালোবাসেন এবং সামাজিক পরিসরে স্বচ্ছন্দ থাকেন। অর্থনৈতিক দিক থেকে এঁদের জীবনে সাধারণত বড় অভাব দেখা যায় না। তবে অতিরিক্ত আবেগের কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কখনও কখনও দ্বিধায় ভোগেন।
কপালের মাঝখানে জন্মচিহ্ন থাকা ব্যক্তিদের অত্যন্ত বুদ্ধিমান বলে মনে করা হয়। এঁদের বিচারশক্তি প্রখর হয় এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সাধারণত ভুল করেন না। চাকরি হোক বা ব্যবসা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এঁরা ধীরে ধীরে সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে পারেন। সমাজে এই ধরনের মানুষদের আলাদা পরিচিতি তৈরি হয় এবং নেতৃত্বগুণও লক্ষ্য করা যায়।
ঘাড়ের পিছনে জন্মদাগ থাকা ব্যক্তিদের স্বভাব কিছুটা দৃঢ় ও কঠোর প্রকৃতির হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। এঁরা অল্পতেই রেগে যেতে পারেন, তবে এই রাগই অনেক সময় তাঁদের কর্মজীবনে দৃঢ়তা এনে দেয়। আবেগের বদলে যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বেশি পছন্দ করেন এবং কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রাখতে পারেন।
ডান গালে জন্মদাগ থাকা নিয়ে শাস্ত্রে লিঙ্গভেদে আলাদা ব্যাখ্যা রয়েছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ডান গালের জন্মদাগ অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়। এঁদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয় এবং পরিবারে সম্মান ও গুরুত্ব পান। অন্যদিকে, ছেলেদের ডান গালে জন্মদাগ থাকলে জীবনে একাধিকবার আর্থিক ওঠানামার সম্মুখীন হতে পারেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে এই বাধা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
পিঠে জন্মদাগ থাকা ব্যক্তিরা সাধারণত সাহসী ও ঝুঁকিপ্রিয় হন। এঁরা নতুন কিছু করতে ভয় পান না এবং কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও সহজে ভেঙে পড়েন না। নিজের বুদ্ধি ও সাহসের জোরে সমস্যা মোকাবিলা করতে জানেন। জীবনের কঠিন সময়েও তাঁদের আত্মবিশ্বাস অটুট থাকে, যা তাঁদের এগিয়ে চলার শক্তি জোগায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জন্মদাগ কোনও অশুভ চিহ্ন নয়। সামুদ্রিক শাস্ত্র অনুযায়ী এটি মানুষের স্বভাব, মানসিকতা ও জীবনের প্রবণতার প্রতীক মাত্র। এই ব্যাখ্যাগুলি বিশ্বাসনির্ভর হলেও, জন্মদাগ নিয়ে অহেতুক ভয় পাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং নিজের গুণাবলি ও সীমাবদ্ধতাকে চিনে নিয়ে সচেতনভাবে জীবনযাপন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.