দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস চালু হতে চলেছে হাওড়া–কামাখ্যা রুটে, যা পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের জন্য এক নতুন রেল সংযোগের সূচনা। বৃহস্পতিবার থেকেই এই অত্যাধুনিক স্লিপার ট্রেনটি জনসাধারণের জন্য চলাচল শুরু করবে। সপ্তাহে ছ’দিন চলবে এই ট্রেন। তবে যাত্রা শুরুর আগেই খাবার নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে বন্দে ভারত স্লিপার।
আইআরসিটিসি-র ওয়েবসাইটে অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে যাত্রীরা দেখছেন, খাবারের বিকল্প হিসেবে কেবলমাত্র নিরামিষ মেনুই দেওয়া হচ্ছে। আমিষ খাবার বেছে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এই বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা ও যাত্রীদের একাংশের প্রশ্ন—বাংলা ও অসমের মতো রাজ্যে, যেখানে আমিষ খাবার দৈনন্দিন জীবনের অংশ, সেখানে কেন এই সিদ্ধান্ত?
বন্দে ভারত ট্রেন ইতিমধ্যেই গতি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত মানের খাবারের জন্য জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিছুদিন আগেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বন্দে ভারত স্লিপারের মেনু প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, এই ট্রেনের খাবারের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় পদগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘোষিত মেনুতে কোনও আমিষ পদ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ নিয়ে।
আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে পূর্ব রেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যায়। পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত জানান, খাবারের মেনু নির্ধারণের দায়িত্ব আইআরসিটিসি-র। অন্যদিকে, আইআরসিটিসি-র এক আধিকারিক বলেন, বন্দে ভারত স্লিপারে স্থানীয় খাবারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে আমিষ-নিরামিষ বিতর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।
এই ইস্যুতে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “বাংলায় এসে প্রধানমন্ত্রী বন্দে ভারত চালু করলেও বাঙালির মাছ-ভাতের সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, বিধানসভা ভোটে এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। বিজেপি যদিও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না এবং খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
রেলমন্ত্রীর ঘোষিত মেনু অনুযায়ী, হাওড়া থেকে কামাখ্যার উদ্দেশে যাত্রা করা ট্রেনে পরিবেশন করা হবে বাসন্তী পোলাও, ছোলার ডাল বা মুগ ডাল, ঝুরি আলু ভাজা, ছানা বা ধোকার ডালনা, লাবড়া, সন্দেশ ও রসগোল্লা। কামাখ্যা থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে থাকছে অসমের সুগন্ধি জোহা ভাত, মাটি মাহর ডালি, মুসুর ডালি, মরসুমি সবজি ও নারকেল বরফি। এর পাশাপাশি চা ও কফির ব্যবস্থাও থাকছে। যাত্রীরা চাইলে আলাদা করে খাবার কিনতেও পারবেন।
সময়সূচি অনুযায়ী, হাওড়া থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ট্রেন ছাড়বে এবং পরদিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে কামাখ্যায় পৌঁছবে। কামাখ্যা থেকে ট্রেন ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে এবং পরদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হাওড়ায় পৌঁছবে।
নতুন বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস আধুনিকতার প্রতীক হলেও, শুধুই নিরামিষ মেনু রাখার সিদ্ধান্ত যাত্রীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.