ভালবাসা যে কখন যুক্তির হিসাব মানে না, তা আবারও প্রমাণ হল সরস্বতীপুজোর দিনে। সমাজমাধ্যমে পরিচয়, তার পর দীর্ঘ ছ’মাসের ফোনালাপ আর স্বপ্নে সাজানো ভবিষ্যৎ— সব মিলিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের আশায় হাওড়া থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে পৌঁছে শেষ পর্যন্ত থানায় রাত কাটাতে হল এক যুবককে।
হাওড়ার বাগনানের বাসিন্দা শুভ্রাংশু (নাম পরিবর্তিত)। ছ’মাস আগে সমাজমাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় এক তরুণীর সঙ্গে। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, তার পর প্রেম। ফোনের ওপারে থাকা সেই ‘রহস্যময়ী’ তরুণী জানিয়েছিলেন, তিনি সবংয়ের বাসিন্দা। শুধু তাই নয়, সরস্বতীপুজোর দিনই প্রথম দেখা হবে এবং সেদিনই প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও নাকি চূড়ান্ত।
শুক্রবার বসন্ত পঞ্চমীর সকালে সেই বিশ্বাসেই সেজেগুজে বাড়ি থেকে বের হন শুভ্রাংশু। সঙ্গে ছিলেন এক বন্ধু। প্রেমিকার সঙ্গে প্রথম দেখা, শাড়ি-পরা রূপ, আর একসঙ্গে নতুন জীবনের শুরু— সব কল্পনাই তখন বুকের মধ্যে ধুকপুক করছে। একের পর এক বাস বদলে, শেষে অনেকটা পথ হেঁটে সবংয়ের একটি গ্রামে পৌঁছন তিনি।
কিন্তু সময় গড়ালেও প্রেমিকার দেখা নেই। বার বার ঘড়ির দিকে তাকানো, চারপাশে পাঞ্জাবি-পরা ছাত্রছাত্রীদের ভিড়, উৎসবের আনন্দ— সবের মধ্যেও অপেক্ষা বাড়ে শুধু। একাধিকবার ফোন করা হলে শেষে একবার ফোন ধরেন প্রেমিকা। তখনই বদলে যায় সব পরিকল্পনা। তিনি জানান, শুক্রবার আর দেখা সম্ভব নয়। পরামর্শ দেন, রাতটা যেভাবেই হোক কাটিয়ে দিতে, শনিবার ভোরে দু’জনে একসঙ্গে পালাবেন।
এই আশাতেই বন্ধুকে নিয়ে বিকেল তিনটে থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত অচেনা গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকেন শুভ্রাংশু। দীর্ঘ সময় দু’জন অপরিচিত যুবককে বসে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় দোকানির। প্রশ্ন করতে শুরু করলে তাঁদের কথাবার্তায় সন্দেহ আরও বাড়ে। বিষয়টি তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে জানান। সেখান থেকে খবর যায় সিভিক ভলান্টিয়ারের কাছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্রথমে মুখ খুলতে চাননি দুই যুবক। তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই রাত কাটে। শেষে বিপদ বুঝে পুরো ঘটনা খুলে বলেন শুভ্রাংশু। সব শুনে পুলিশ হাওড়ায় তাঁর বাড়িতে খবর দেয়।
এর পর হাওড়া থেকে বন্ধুবান্ধব এসে থানায় পৌঁছন। পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনা হয় শুভ্রাংশু ও তাঁর বন্ধুকে। কোনও অভিযোগ না থাকায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সরস্বতীপুজোয় প্রেমিকার সঙ্গে প্রথম দেখা, শাড়ি-পরা স্বপ্নের মানুষকে দেখা, আর একসঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার কল্পনা— সবই শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল। ব্যর্থ প্রেম আর ভাঙা স্বপ্ন বুকে নিয়েই বাগনানে ফিরে গেলেন শুভ্রাংশু।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.