২০১৯ সালের ‘মিসেস ইন্ডিয়া’ খেতাবজয়ী সায়লী সুর্বে সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে আনলেন। ভালবেসে বিয়ে করা সম্পর্ক যে তাঁর জীবনে গভীর যন্ত্রণা নিয়ে এসেছে, সেই অভিজ্ঞতার কথাই তিনি খোলাখুলি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, কয়েক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে নিকাহ্ করার জন্য যে ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন, এখন আবার নিজের পুরনো ধর্মে ফিরে এসেছেন।
সায়লীর দাবি, পুণের ব্যবসায়ী আতিফ তাসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর তিনি বিয়ে করেন। সেই সময় নিকাহ্ সম্পন্ন করার জন্য তাঁকে ধর্মান্তরিত হতে হয়েছিল। তখন নিজের নামও বদলে ফেলেন তিনি। সায়লী সুর্বে থেকে তাঁর নাম হয়ে যায় অতেজ়া তাসে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর অনুতাপ বাড়তে থাকে।
সম্প্রতি তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই তাঁর দাম্পত্যজীবনে নানা সমস্যা শুরু হয়। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর কাছ থেকে নিয়মিত অপমান, গালিগালাজ এমনকি শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। প্রথমদিকে বিষয়টি তিনি কাউকে জানাননি। দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি সহ্য করে গিয়েছেন।
সায়লীর কথায়, সম্পর্কের শুরুতে তিনি স্বামীকে ভদ্র ও সহৃদয় মানুষ বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের পরে ধীরে ধীরে সেই ধারণা বদলে যায়। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে তিনি প্রায় প্রতিদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতেন বলে দাবি করেন।
বর্তমানে সায়লী চার সন্তানের মা। তিনি জানান, এতদিন সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবকিছু সহ্য করে গিয়েছিলেন। পরিবারের শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান তিনি। কিন্তু একসময় তিনি বুঝতে পারেন যে এই পরিস্থিতিতে থাকা তাঁর এবং সন্তানদের জন্য ভালো নয়।
এরপরই তিনি নিজের জীবনে বড় সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি নিজের বাড়িতেই ‘শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া’ সম্পন্ন করে তিনি আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে আসেন বলে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে নিজের নামও নতুন করে গ্রহণ করেছেন। এখন তিনি আদ্যা নামে পরিচিত হতে চান।
সায়লী আরও বলেন, জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অন্য নারীদের একটি বার্তা দিতে চান। তাঁর মতে, কোনও ধরনের নির্যাতন বা অত্যাচার কখনওই সহ্য করা উচিত নয়। সম্পর্কের নামে যদি কেউ অপমান বা সহিংসতার শিকার হন, তাহলে সময়মতো সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জরুরি।
নিজের অতীতের কঠিন অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনে সায়লী এখন নতুন করে জীবন শুরু করার কথা বলছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, বরং তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেও নিয়েছেন।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.