পাঁচ বছর পর ভারতে ফিরছে Huawei: MatePad 11.5 ও MatePad SE 11 ট্যাবলেটের দাম ও ফিচার ফাঁস

ভারতের ট্যাবলেট বাজারে দীর্ঘ বিরতির পর আবার প্রবেশ করতে চলেছে Huawei। প্রায় পাঁচ বছর আগে শেষবার কোম্পানি এই সেগমেন্টে ডিভাইস এনেছিল। এবার নতুন করে বাজারে জায়গা করে নিতে তারা দুটি ট্যাবলেট আনতে চলেছে—Huawei MatePad 11.5 এবং Huawei MatePad SE 11। অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম Flipkart-এ প্রকাশিত টিজার থেকেই এই আসন্ন ট্যাবলেটগুলির সম্ভাব্য দাম ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা মিলেছে।

MatePad 11.5: প্রিমিয়াম ট্যাবলেট হিসেবে আসছে

Huawei-র নতুন ট্যাবলেটগুলির মধ্যে MatePad 11.5-কে প্রিমিয়াম মডেল হিসেবে ধরা হচ্ছে। ভারতীয় বাজারে এই ডিভাইসটির সম্ভাব্য দাম প্রায় ৩৩,৯৯৯ টাকা হতে পারে।
এই ট্যাবলেটটির অন্যতম আকর্ষণ ১১.৫-ইঞ্চির 2.5K রেজোলিউশনের PaperMatte ডিসপ্লে। এমনভাবে স্ক্রিনটি তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা কাগজে লেখার মতো অনুভূতি পান এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকালেও চোখে তুলনামূলক কম চাপ পড়ে। ফলে পড়াশোনা, নোট নেওয়া বা ডকুমেন্ট নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এটি উপযোগী হতে পারে।

প্রোডাক্টিভিটির কথা মাথায় রেখে ডিভাইসটির সঙ্গে ডিট্যাচেবল কীবোর্ড এবং স্টাইলাস সাপোর্ট রাখা হয়েছে। এর ফলে ট্যাবলেটটি শুধু ভিডিও দেখা বা ব্রাউজিংয়ের জন্য নয়, কাজের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

ব্যাটারি বিভাগেও বড়সড় সুবিধা দেওয়া হয়েছে। MatePad 11.5-এ রয়েছে ১০,১০০mAh ক্ষমতার ব্যাটারি এবং ৪০W ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, একবার চার্জে প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক করা যেতে পারে।
ডিজাইনের দিক থেকে এটি মাত্র ৬.১ মিমি পাতলা মেটাল বডির সঙ্গে আসতে পারে, যা ট্যাবলেটটিকে প্রিমিয়াম অনুভূতি দেবে। পাশাপাশি কোয়াড স্পিকার সেটআপ থাকায় অডিও অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

MatePad SE 11: বাজেট সেগমেন্টে নতুন বিকল্প

অন্যদিকে, কম দামের ট্যাবলেট খুঁজছেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য Huawei নিয়ে আসছে MatePad SE 11। এই মডেলটির সম্ভাব্য প্রাথমিক দাম প্রায় ১৩,৭৪৯ টাকা হতে পারে।
এই ট্যাবলেটে ১১-ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে এবং TÜV Rheinland সার্টিফিকেশন থাকার কারণে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের সময় চোখের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যাটারি হিসেবে এতে ৭,৭০০mAh ক্ষমতার ইউনিট থাকবে এবং ২২.৫W চার্জিং সাপোর্ট করবে। এছাড়া Huawei-র M Pen স্টাইলাস সাপোর্ট থাকায় নোট নেওয়া বা স্কেচ করার সুবিধাও মিলবে।

ক্যামেরা বিভাগ খুব উন্নত না হলেও, কোয়াড স্পিকার সেটআপ থাকার কারণে ভিডিও স্ট্রিমিং বা অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে এটি ভালো অভিজ্ঞতা দিতে পারে। তাই যারা মূলত বড় স্ক্রিনে কনটেন্ট দেখা, ব্রাউজিং বা হালকা কাজের জন্য ট্যাবলেট চান, তাদের জন্য এই ডিভাইসটি একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।

পাঁচ বছর পর Huawei-র প্রত্যাবর্তন

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, Huawei শেষবার ২০২০ সালে ভারতে তাদের ট্যাবলেট লঞ্চ করেছিল। এরপর দীর্ঘ সময় কোম্পানির নতুন কোনো ট্যাবলেট বাজারে দেখা যায়নি। এবার নতুন দুটি মডেল দিয়ে আবার প্রতিযোগিতায় ফিরতে চাইছে ব্র্যান্ডটি।

তবে বাজারে প্রতিযোগিতা সহজ হবে না। বর্তমানে প্রিমিয়াম ট্যাবলেট সেগমেন্টে Apple-এর iPad সিরিজ অত্যন্ত জনপ্রিয়। আবার অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে Samsung এবং Lenovo শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

বড় চ্যালেঞ্জ: Google পরিষেবার অভাব

Huawei ডিভাইসগুলির ক্ষেত্রে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে—Google Mobile Services-এর অনুপস্থিতি। ফলে Play Store, Gmail বা YouTube-এর মতো জনপ্রিয় অ্যাপ সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। অনেক ব্যবহারকারীর কাছে এটি বড় অসুবিধা হতে পারে এবং কেনার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

কার জন্য কোন ট্যাবলেট?

সব দিক বিবেচনা করলে, যারা নোট নেওয়া, পড়াশোনা বা হালকা অফিসিয়াল কাজের জন্য একটি শক্তিশালী ট্যাবলেট চান, তাদের জন্য MatePad 11.5 ভালো বিকল্প হতে পারে। আর যারা কম বাজেটে বড় স্ক্রিনের একটি ট্যাবলেট খুঁজছেন মূলত এন্টারটেইনমেন্ট বা অনলাইন ক্লাসের জন্য, তারা MatePad SE 11-এর দিকে নজর রাখতে পারেন।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক