ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে ফের সামনে এল চিন-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ। সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক অভিযান চলাকালীন ইসলামাবাদকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল বেজিং। এই পরিস্থিতিতে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানাল নয়াদিল্লি।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, বিভিন্ন রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে এসেছে যা ভারতের পূর্বের আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে। তাঁর বক্তব্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পরিকল্পিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক জবাব। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের মদতে চলা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোকে ধ্বংস করা।
এরপরই চিনকে নাম না করে কার্যত কড়া বার্তা দেয় ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়, যে দেশগুলি নিজেদের দায়িত্বশীল শক্তি বলে দাবি করে, তাদের ভেবে দেখা উচিত সন্ত্রাসবাদকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দিলে আন্তর্জাতিক মহলে তাদের ভাবমূর্তি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। ভারতের দাবি, পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন এই হামলার পিছনে ছিল। তার জবাব হিসেবেই ৭ মে থেকে সীমান্তের ওপারে শুরু হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। কয়েক দিন ধরে চলা এই অভিযানে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হয়।
এদিকে চিনের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভিতে সম্প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকার নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সেখানে এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চায়না (AVIC)-এর সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলী ঝাং হেং জানান, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত চলাকালীন তাঁর দল পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল। AVIC হল চিনের অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান ও ড্রোন নির্মাতা সংস্থা।
হংকংয়ের সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান বায়ুসেনা চিনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে, যা AVIC-এর সহযোগী সংস্থা তৈরি করে। ঝাং হেং দাবি করেন, সরাসরি পরিস্থিতির মধ্যে থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতাই তাঁদের দলকে আরও সক্রিয়ভাবে সাহায্য করতে উৎসাহিত করেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চিনের ভূমিকা ঠিক কতটা নিরপেক্ষ। ভারতের কূটনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা আড়াল করার অভিযোগ কোনও দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.