সমাজমাধ্যমে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্যের পর নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অভিনেত্রী Sushmita Roy। সম্প্রতি লাইভে এসে তিনি তাঁর প্রাক্তন স্বামী Sabyasachi Chakraborty-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। সেই লাইভ ভিডিওতেই তিনি জানান, দাম্পত্য জীবনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সব্যসাচী প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দেন যে তিনি সুস্মিতার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারেন। এই প্রসঙ্গেই এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুস্মিতা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
“মানহানির মামলা তো আমারই করা উচিত”
অভিনেত্রীর দাবি, এতদিন তিনি অনেক বিষয় চুপচাপ সহ্য করেছেন। তাঁর কথায়, যেসব বিষয় নিয়ে এতদিন তাঁকে নানাভাবে চাপ দেওয়া বা ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল, সেগুলো তিনি নিজেই সামনে এসে স্বীকার করেছেন। এরপরই অন্য দিকের ঘটনাগুলিও তুলে ধরেছেন।
সুস্মিতা বলেন, কোনও বিষয় প্রকাশ্যে বলার আগে নিজেকে নিয়ে খোলাখুলি কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাঁর মতে, প্রাক্তন স্বামীর সাম্প্রতিক পোস্টে শুধুমাত্র তাঁর দিকের কথা তুলে ধরা হয়েছে, অন্য দিকের কোনও স্বীকারোক্তি নেই। বরং নতুন কিছু অভিযোগ বা গল্প তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর মতে, এতে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে—কার কথা সত্যি তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়াই যেন উদ্দেশ্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক অব্যাহত
অভিনেত্রী আরও জানান, এই বিতর্ক এখনও পুরোপুরি থামেনি। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যক্তি সায়ক এখনও বিভিন্ন পোস্টে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
তবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রসঙ্গে সুস্মিতা বলেন, যদি সত্যিই মানহানির মামলা করতে হতো, তাহলে সেটা অনেক আগেই করা উচিত ছিল—বিশেষ করে যখন প্রথম বিতর্কিত পোস্টটি প্রকাশ্যে আসে।
নতুন সংসার নিয়ে মন্তব্যে ক্ষোভ
সুস্মিতার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা মন্তব্য করা হয়েছে। বিশেষ করে তিনি যখন নতুন করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন, তখনই তাঁর বিয়ে বা সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য সামনে আসে।
তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে যেন তিনি একাধিক বিয়েকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু নিজের স্বার্থে সম্পর্ক গড়েছেন এবং ভেঙেছেন। তবে অভিনেত্রীর দাবি, বাস্তবে ঘটনাগুলো অনেক বেশি জটিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে নানা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।
পুরনো নীরবতার কারণ
সুস্মিতা জানান, ডিভোর্স বা আলাদা থাকার পরেও অনেক অভিযোগ ও আলোচনা চলেছে। এমনকি তাঁর পরিবার, বিশেষ করে তাঁর মাকে নিয়েও নানা মন্তব্য করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া তাঁর ফ্ল্যাট নিয়ে মালিকানা সংক্রান্ত বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টাও হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এতদিন তিনি এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেননি। কারণ সেই সময় তাঁর ব্যবসায়িক কাজের প্রচুর চাপ ছিল। এমনকি সায়কের একটি পোস্টের পরেও তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি বলে জানান।
লাইভে আসার পেছনের কারণ
অভিনেত্রীর কথায়, পরিস্থিতি বদলে যায় যখন তিনি একটি হুমকিমূলক বার্তা পান। সেই বার্তাটি তিনি সায়ককে পাঠিয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য সামনাসামনি বসার প্রস্তাব দেন।
সুস্মিতার দাবি, সায়ক প্রথমে দেখা করতে রাজি হয়েছিলেন এবং কিছুটা পথও এগিয়েছিলেন। কিন্তু পরে নাকি তাঁর দাদার কথায় ফিরে যান। এরপরই তিনি স্পষ্টভাবে জানান—সেদিনই যদি বিষয়টি মেটানো না হয়, তাহলে তিনি লাইভে এসে সব বলবেন।
চার বিয়ে নিয়ে বিতর্ক
সামাজিক মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হওয়া আলোচনা সম্পর্কেও কথা বলেন সুস্মিতা। বিশেষ করে একাধিক বিয়ে নিয়ে যে মন্তব্য করা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অভিনেত্রীর মতে, মানুষ অনেক সময় বাইরের তথ্য দেখে সহজেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়। কিন্তু প্রতিটি সম্পর্কের পেছনে আলাদা গল্প এবং বাস্তবতা থাকে, যা সবাই জানে না। প্রায় ১৮ বছর আগে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে কিছুই বলেননি।

সম্পর্কের সমাপ্তি ও নতুন অধ্যায়
উল্লেখ্য, সুস্মিতা রায় এবং সব্যসাচী চক্রবর্তী ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাঁদের বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন। সেই ঘটনার পর কিছুদিনের মধ্যেই চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার শুভাশিসের সঙ্গে পরিবারের উপস্থিতিতে নতুন করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বর্তমানে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায় এবং সত্যিই কেউ আইনি পথে হাঁটবেন কি না—সেদিকেই নজর রয়েছে অনেকের।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.