রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই সংক্রান্ত বার্তা পৌঁছে গিয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, স্কুল শুরু হওয়ার আগে ছাত্রছাত্রীদের জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে গরমের ছুটির কারণে স্কুল বন্ধ থাকলেও, আগামী দিনে এই নির্দেশ কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলার স্কুল পরিদর্শক ও শিক্ষা আধিকারিকদের মাধ্যমে বিষয়টি স্কুলগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত মৌখিক ও ডিজিটাল মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো হলেও খুব শীঘ্রই লিখিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে এবং এখন সেই পরিস্থিতি বদলানোর সময় এসেছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও অতীতে এই বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তখন তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন নতুন করে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক চেতনা তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু রাজনৈতিক মহলই নয়, শিক্ষকদের একাংশও এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। শিক্ষকদের সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই স্কুলে এই গান পুনরায় চালু হওয়া শিক্ষাক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও বিষয় বাধ্যতামূলক করার আগে বৃহত্তর আলোচনা প্রয়োজন। অন্যদিকে সমর্থকদের বক্তব্য, জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
রাজ্যের স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ছুটি শেষে নতুন শিক্ষাবর্ষে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.