পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রাম। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে এই এলাকাকে আবারও রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামে দলীয় কর্মিসভা করে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee বিরোধী শিবিরের নেতা Suvendu Adhikari-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান এবং দলের প্রার্থী পবিত্র করকে জেতানোর জন্য কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নন্দীগ্রাম ইতিমধ্যেই রাজ্যের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ক্ষেত্র। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। সেই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ওই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনও আদালতে মামলা চলার প্রসঙ্গও সভায় উল্লেখ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, আগের নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও সংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে। দলের কর্মী-সমর্থকদের শক্তি বাড়ানোর উপর বিশেষ জোর দেন তিনি।
‘নন্দীগ্রামের মাটি পবিত্র করার লড়াই’
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রতীকী ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং এলাকার মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই।
তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভয় না পেয়ে সংগঠিতভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে এবং ভোটের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখতে হবে। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, প্রয়োজনে আরও কয়েকবার নন্দীগ্রামে এসে প্রচারে অংশ নেবেন।
অন্তর্ঘাত প্রসঙ্গে সতর্ক বার্তা
সভায় দলের ভেতরের অন্তর্ঘাত বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও কথা বলেন অভিষেক। তিনি কর্মীদের মনে করিয়ে দেন, রাজনীতিতে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলবিরোধী কাজ করলে তা শেষ পর্যন্ত মানুষের চোখে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তাঁর মতে, দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করা প্রত্যেক কর্মীর দায়িত্ব।
পবিত্র করকে প্রার্থী করা নিয়ে চমক
এই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে নতুন একটি নাম—পবিত্র কর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিনি একসময় স্থানীয় স্তরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের দায়িত্বও সামলেছেন।
গত ১৭ মার্চ প্রার্থী তালিকা ঘোষণার ঠিক আগে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। সেই ঘটনার পরই তাঁকে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দেয়।
বিধায়কের কাজের হিসাব চাইলেন অভিষেক
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বর্তমান বিধায়কের কাজ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এলাকার মানুষের কাছে উন্নয়নমূলক কাজের হিসাব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানতে চান, স্থানীয় মানুষের কাছে কতটা পৌঁছতে পেরেছেন বর্তমান বিধায়ক এবং তাঁদের সমস্যার সমাধানে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা
নন্দীগ্রামের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি জানান, তাঁর নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে যেভাবে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, একইভাবে নন্দীগ্রামেও তা করার চেষ্টা থাকবে।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন—
বিভিন্ন পঞ্চায়েতে ‘সেবাশ্রয়’ শিবির আয়োজন করা হবে
বার্ধক্য ভাতার আবেদনকারীদের সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে
আবাসনের জন্য আবেদন করা পরিবারগুলির সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে
এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক তালিকা তৈরি করে কাজ শুরু করা হবে
অভিষেক আরও বলেন, উন্নয়নের গতি বাড়ানো জরুরি। তাঁর মতে, এলাকার অগ্রগতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে হলে সকলে মিলে কাজ করতে হবে।
নির্বাচনী লড়াই আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত
সাম্প্রতিক সময়ে নন্দীগ্রামে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি আয়োজন করে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রের দাবি, সেই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ যথেষ্ট ছিল।
সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই যে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, তা স্পষ্ট। আসন্ন নির্বাচনে এই কেন্দ্র আবারও রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.