টলিউডে শোকের আবহ এখনও কাটেনি। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন, ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের সুর ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বা বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিল্পী মহল ও সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে আগামী শনিবার বিকেলে টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই পদযাত্রার পিছনে রয়েছেন টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। পরিচালক ও অভিনেতা থেকে শুরু করে প্রযোজক—মোট ৪২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, অনির্বাণ চক্রবর্তী, অপর্ণা সেন, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, রাজ চক্রবর্তী, যিশু সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে রয়েছেন। তাঁদের একটাই দাবি—রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত এবং ন্যায়বিচার।
তবে এই আন্দোলনকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে মতভেদ। ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন আর্টিস্ট ফোরাম এই মিছিলে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তাদের কাছে কোনও অফিসিয়াল আমন্ত্রণ আসেনি। যদিও ব্যক্তিগতভাবে কোনও সদস্য চাইলে মিছিলে যোগ দিতে পারবেন—এ ব্যাপারে কোনও বাধা নেই।

অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে ইম্পা (ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন)। সংগঠনের সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, রাহুলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক থাকার কারণে তাঁরা এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। তাঁর কথায়, এটি শুধুমাত্র একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়, বরং গোটা শিল্প জগতের জন্য এক গভীর আঘাত। তাই ন্যায়বিচারের দাবিতে পথে নামা তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব।
রাহুলের মৃত্যুর পর থেকে বিভিন্ন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করলেও এখনও পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত কিছু জানাননি। অন্যদিকে, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় নিজের পদ ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
সব মিলিয়ে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু এখন শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি টলিউডের ভেতরের অসংগতি, নিরাপত্তা এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শনিবারের মিছিল সেই প্রশ্নগুলিকেই আরও জোরালো করে তুলতে পারে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.