বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা Akshay Kumar-এর ছেলে Aarav Bhatia এমন এক পথ বেছে নিয়েছেন, যা তারকাসন্তানদের মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না। বিপুল সম্পত্তি, বিলাসবহুল জীবন এবং সিনেমা জগতের সহজ সুযোগ—সবকিছুকে দূরে সরিয়ে রেখে তিনি গড়ে তুলছেন একেবারে নিজস্ব জীবনযাপন।
মাত্র কিশোর বয়সেই আরভ সিদ্ধান্ত নেন যে, বাবার পরিচয়ের উপর নির্ভর না করে নিজের পরিচয় তৈরি করবেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন এবং নিজের পছন্দের ক্ষেত্রে কাজও শুরু করেছেন। তাঁর আগ্রহ মূলত ফ্যাশন জগতে, অভিনয়ে নয়—যা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের।
আরভের মধ্যে অনেকেই খুঁজে পান তাঁর দাদু Rajesh Khanna-র ছায়া। তবে দাদুর মতো অভিনয়ের প্রতি তাঁর টান নেই বললেই চলে। বরং ফ্যাশন, টেক্সটাইল এবং হস্তশিল্পের প্রতি গভীর আগ্রহ তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।
জানা যায়, আরভ মাসে খুবই সামান্য বেতন পান—প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকার সমপরিমাণ। তবে এই আয়ের পরিমাণ তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং নিজের চেষ্টায় কাজ শেখা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, Akshay Kumar একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ছেলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হলেও গর্বিত। তাঁর কথায়, আরভ অত্যন্ত সরল মনের মানুষ এবং বাস্তব জগতে মানুষ চেনার ক্ষেত্রে এখনও অভিজ্ঞতা কম। তবুও তিনি ছেলেকে নিজের মতো করে এগোতে দিয়েছেন।
আরভের জীবনযাপনও অত্যন্ত সাধারণ। তিনি নিজের রান্না নিজেই করেন, নিজের কাপড় নিজেই ধুয়ে নেন। এমনকি দামি পোশাকের প্রতি তাঁর কোনও আকর্ষণ নেই। বরং পুরনো জিনিসপত্রের দোকান থেকে পোশাক কিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ব্লক প্রিন্টিং এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার কাজ শেখার দিকেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি ফ্যাশনকে শুধু স্টাইল নয়, সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বুঝতে চাইছেন।
প্রায় ২৫০০ কোটির সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েও আরভ ভাটিয়ার এই সাধারণ জীবনযাপন এবং আত্মনির্ভরতার ইচ্ছা তাঁকে অন্য তারকাসন্তানদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তুলেছে। তাঁর এই পথচলা প্রমাণ করে—পরিচয় তৈরি হয় নিজের চেষ্টায়, শুধু পারিবারিক পরিচয়ে নয়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.


