টলিউডে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বর্ষীয়ান অভিনেতা ও প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত আর নেই। শুক্রবার দুপুরে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অটোইমিউন জনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং গত দেড় বছর ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল।
তাঁর প্রয়াণে শিল্পমহলে নেমে এসেছে শোকের আবহ। বিশেষ করে অভিনেত্রী বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায় তাঁর স্মৃতিচারণে ভীষণ আবেগঘন হয়ে ওঠেন। সামাজিক মাধ্যমে একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, তাঁদের দীর্ঘ আড্ডার স্মৃতি যেন বারবার ফিরে আসছে। সেই আড্ডায় সাহিত্য, সিনেমা ও সঙ্গীত নিয়ে আলোচনা চলত ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
তিনি উল্লেখ করেন, তাঁদের আলোচনায় জায়গা পেতেন মহান শিল্পীরা— যেমন উত্তম কুমার, মান্না দে, Richard Burton এবং Marlon Brando। এইসব আড্ডা তাঁর ব্যক্তিজীবন ও চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে সমৃদ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, “আরও কত আড্ডা বাকি রয়ে গেল”— এই অপূর্ণতার বেদনাই আজ বেশি করে অনুভূত হচ্ছে।
বিপ্লব দাশগুপ্তের কর্মজীবন ছিল বহুমাত্রিক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করার পর তিনি শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পাশাপাশি বাচিকশিল্পী হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। বিজ্ঞাপন ও ভয়েস-ওভার জগতেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।
অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গিয়েছেন। ২০০৪ সালে Shadows of Time ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে বাইশে শ্রাবণ, গুমনামি এবং ফেলুদা-সহ একাধিক জনপ্রিয় প্রযোজনায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়।
২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দেবতার গ্রাস ছবিতে তিনি অভিনয় করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং নাসিরুদ্দিন শাহ-এর সঙ্গে, যা আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
তাঁর মৃত্যুতে শুধু এক জন অভিনেতা নয়, হারিয়ে গেলেন এক জন বিদগ্ধ, রসবোধসম্পন্ন এবং গভীর সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ। সহকর্মী ও অনুরাগীদের স্মৃতিতে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.