বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, ঢিলে ভাব বা উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তন স্বাভাবিক। তবে বর্তমান সময়ে অনেকেই এই প্রাকৃতিক পরিবর্তন মেনে নিতে চান না। ফলে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে নানান আধুনিক পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন মানুষ। একসময় যেখানে বোটক্স ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় সমাধান, এখন সেখানে জায়গা করে নিচ্ছে ‘রিজেনারেটিভ অ্যাসথেটিক্স’।
রিজেনারেটিভ থেরাপি কী?
রিজেনারেটিভ থেরাপি কোনও একক চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, বরং একাধিক উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়। এর মূল উদ্দেশ্য হল ত্বকের ক্ষয়প্রাপ্ত বা দুর্বল কোষকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানো। কোলাজেনই ত্বককে টানটান ও তরুণ রাখার অন্যতম প্রধান উপাদান।
পিআরপি থেরাপি কীভাবে কাজ করে?
রিজেনারেটিভ চিকিৎসার অন্যতম জনপ্রিয় পদ্ধতি হল প্লেটলেট রিচ প্লাজমা (PRP) থেরাপি। এই পদ্ধতিতে—
* প্রথমে রোগীর শরীর থেকে রক্ত নেওয়া হয়
* এরপর সেই রক্ত থেকে প্লাজমা ও অন্যান্য উপাদান আলাদা করা হয়
* প্লাজমার যে অংশে বেশি পরিমাণে প্লেটলেট ও গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে, সেটি সংগ্রহ করা হয়
* এই অংশটি ত্বকের নির্দিষ্ট স্থানে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়
এই গ্রোথ ফ্যাক্টর ত্বকের কোষ মেরামত করতে সাহায্য করে এবং নতুন কোলাজেন তৈরি করে। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে মসৃণ, উজ্জ্বল এবং টানটান। পাশাপাশি দাগছোপ বা মেচেতার সমস্যাও কিছুটা কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিতে ত্বকের তারুণ্য প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরে পাওয়া সম্ভব। প্রতি সেশনের খরচ সাধারণত ৩,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে হয়, এবং কতগুলি সেশন প্রয়োজন তা নির্ভর করে ব্যক্তিভেদে।
বায়ো-রিমডেলিং থেরাপি কী?
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হল বায়ো-রিমডেলিং। এতে অস্ত্রোপচার ছাড়াই সূক্ষ্ম সুচের মাধ্যমে ত্বকের বিভিন্ন অংশে হায়ালুরনিক অ্যাসিড প্রয়োগ করা হয়।
হায়ালুরনিক অ্যাসিডের কাজ হলো—
* ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা
* শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ ত্বকে জেল্লা ফিরিয়ে আনা
* ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখা
* ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পুনর্গঠন
এই থেরাপি বিশেষ করে বলিরেখা, দাগ বা ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কার্যকর। সাধারণত ৪–৬ মাস অন্তর ইনজেকশন নিতে হয়, তবে এর প্রভাব প্রায় এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। প্রতি সেশনের খরচ ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার মধ্যে।
কেন বাড়ছে জনপ্রিয়তা?
* রিজেনারেটিভ থেরাপির জনপ্রিয়তা বাড়ার কারণ—
* এটি শরীরের নিজস্ব উপাদান ব্যবহার করে
* ফলাফল তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী
* ত্বকের স্বাভাবিক গঠন বজায় থাকে
* পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম
সব মিলিয়ে, কৃত্রিম পরিবর্তনের বদলে স্বাভাবিকভাবে ত্বকের তারুণ্য ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী তরুণ প্রজন্মের কাছে এই থেরাপি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.