আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে একটি ক্ষুদ্র পোকা— এশিয়ান নিডল অ্যান্ট বা চিনা সুচ-পিঁপড়ে। আকারে ছোট হলেও এই পিঁপড়ের আক্রমণে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজ্যে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজাতির পিঁপড়ে মূলত পূর্ব এশিয়ার অঞ্চল থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার অন্তত ২০টি রাজ্যে এদের উপস্থিতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, টেক্সাস-সহ একাধিক এলাকায় এই পিঁপড়ে এখন বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।
সাধারণ পিঁপড়ের তুলনায় এশিয়ান নিডল অ্যান্ট অনেক বেশি আক্রমণাত্মক বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তারা অকারণে মানুষকে আক্রমণ করে না, তবে বিপদ অনুভব করলেই হুল ফোটায়। সেই হুল অনেকটা সূচের মতো তীক্ষ্ণ এবং শরীরে প্রবেশের পর দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথা ও জ্বালাভাব অনুভূত হয়।
চিকিৎসকদের দাবি, এই পিঁপড়ের কামড়ে অনেকের শরীরে তীব্র অ্যালার্জি দেখা দিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা শুধু কামড়ের জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যাঁদের অ্যালার্জির প্রবণতা বেশি, তাঁদের জন্য এই পিঁপড়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মার্কিন প্রশাসন ইতিমধ্যেই নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ভেজা কাঠ বা জমে থাকা পাতা সরিয়ে ফেলা এবং পিঁপড়ের বাসা দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণেও এই প্রজাতির দ্রুত বিস্তার ঘটছে।
ক্ষুদ্র এক পিঁপড়ে যে এত বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে, তা হয়তো আগে কল্পনাও করেননি অনেকেই। কিন্তু বর্তমানে আমেরিকার বহু মানুষের কাছে এশিয়ান নিডল অ্যান্ট এক নতুন আতঙ্কের নাম।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.