সাহারার বুকে মানুষের তৈরি নদী: ৪০ হাজার বছরের পুরনো জলে টিকে আছে লিবিয়া

নদী সাধারণত প্রকৃতির সৃষ্টি হলেও পৃথিবীতে এমন একটি নদী রয়েছে, যা সম্পূর্ণ মানুষের পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিতে তৈরি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবনির্মিত নদী “দ্য গ্রেট ম্যান-মেড রিভার” আজও বিস্ময় জাগায়। সাহারা মরুভূমির বিস্তীর্ণ শুষ্ক অঞ্চলে তৈরি এই প্রকল্প শুধু প্রকৌশল দক্ষতার নিদর্শন নয়, বরং লাখো মানুষের জীবনধারণের অন্যতম ভরসা।

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় ১৯৮০–এর দশকে এই বিশাল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৮৪ সালে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন ও জল সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে মরুভূমির গভীর থেকে পানি তুলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিশাল এই ব্যবস্থাকে অনেকেই “মরুভূমির নদী” বলেও অভিহিত করেন।

এই প্রকল্পের মূল উৎস সাহারা মরুভূমির নিচে থাকা নুবিয়ান স্যান্ডস্টোন অ্যাকুইফার সিস্টেম। এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ভূগর্ভস্থ বিশুদ্ধ জীবাশ্ম জলের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই জল প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে ভূগর্ভে জমা হয়েছিল। সুদান, চাদ, মিশর ও লিবিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার নিচে এই জলাধারের অবস্থান।

লিবিয়া সেই ভূগর্ভস্থ জল শক্তিশালী পাম্পের মাধ্যমে তুলে বিশাল পাইপলাইনের সাহায্যে শহর ও কৃষিজমিতে সরবরাহ করে। ফলে মরুভূমির মতো অনুর্বর এলাকাতেও কৃষিকাজ সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে সেচব্যবস্থায় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শুধু কৃষিক্ষেত্রেই নয়, লিবিয়ার সাধারণ মানুষের পানীয় জলের বড় অংশও আসে এই প্রকল্প থেকে। দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ বিশুদ্ধ জলের চাহিদা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ হয় বলে জানা যায়। দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করা লিবিয়ার জন্য এটি এক বিশাল আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত।

লিবিয়ার সাবেক শাসক Muammar Gaddafi এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। তাঁর সময়েই মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠে এই ব্যতিক্রমধর্মী জল সরবরাহ ব্যবস্থা। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও আজও “দ্য গ্রেট ম্যান-মেড রিভার” দেশটির অর্থনীতি, কৃষি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক