বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউডের একাংশের আচরণ ও মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন তারকা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের অবস্থান বদল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই আবহেই ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে পরিস্থিতিকে তুলে ধরলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও সঞ্চালক Mir Afsar Ali।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি বিদূষকের মুখের ছবি পোস্ট করে মীর লেখেন, কেউ যখন বলেন “আমি আর রাজনীতি করব না, নিজের আসল কাজে ফিরতে চাই”, তখন তাঁর মুখের অভিব্যক্তি ঠিক কেমন হয়। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবু রাজনৈতিক মহল ও টলিপাড়ায় অনেকেই এই মন্তব্যকে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই টলিউডের একাংশের অবস্থান বদল নজরে এসেছে। যাঁরা আগে প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ এখন রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কথা বলছেন, আবার কেউ নতুন সরকারের প্রশংসায় মুখর হয়েছেন। ফলে “হাওয়াবদল” এবং “ডিগবাজি” শব্দ দুটি এখন সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
পরিচালক ও প্রাক্তন বিধায়ক Raj Chakraborty নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে পড়ার পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
অন্যদিকে অভিনেত্রী Rupanjana Mitra-ও ভবিষ্যতে বাংলার রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।
এই আবহে আরও একটি মন্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। অভিনেত্রী ও সাংসদ Rachna Banerjee সম্প্রতি দাবি করেন, অতীতে টলিউডে রাজনৈতিক প্রভাব এতটা প্রবল ছিল না। তাঁর বক্তব্য, আগে কাজের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি শান্ত ছিল এবং রাজনৈতিক চাপও কম ছিল। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে শাসকদলের প্রতি অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল।
সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিনোদন জগতের একাংশের অবস্থান পরিবর্তন ঘিরে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। আর সেই আবহেই মীরের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট যেন নতুন করে বিতর্কে ঘি ঢেলেছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.