তামিল চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। প্রবীণ চলচ্চিত্র প্রযোজক K Rajan-এর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির শিল্পী ও কলাকুশলীরা। জানা গিয়েছে, শনিবার চেন্নাইয়ের আদ্যার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তামিল সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কে রাজন। শুধু প্রযোজক হিসেবেই নয়, পরিচালক ও অভিনেতা হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্ব এবং ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা মন্তব্যের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বেশ কিছু মন্তব্যও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিল।
কে রাজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকপ্রকাশ করেছেন একাধিক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। অভিনেত্রী Khushbu Sundar সামাজিক মাধ্যমে গভীর শোক জানিয়ে লেখেন, এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং চলচ্চিত্র জগতের জন্য বড় ক্ষতি। তাঁর মতে, কে রাজন ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি সত্য কথা বলতে কখনও পিছপা হতেন না।
Terrible news. Deeply shocked to hear about the demise of our beloved member of film fraternity, producer K.Rajan Sir. He passing away by suicide is extremely saddening. Very respectful person and a man who never hesitated to call a spade a spade. Very very upsetting.
May his… pic.twitter.com/75GXFHu9uM— KhushbuSundar (@khushsundar) May 17, 2026
অভিনেতা Vishal-ও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কে রাজনের মতো সাহসী ও স্পষ্টবাদী ব্যক্তিত্বের এমন পরিণতি মেনে নেওয়া কঠিন। একইসঙ্গে তিনি তামিল চলচ্চিত্র জগতের প্রতি তাঁর অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ R. Sarathkumar শোকবার্তায় বলেন, ১৯৮০-র দশক থেকে তামিল সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন কে রাজন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ইন্ডাস্ট্রির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
পরিচালক Seenu Ramasamy-ও গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তামিল চলচ্চিত্র জগৎ এক সাহসী কণ্ঠস্বরকে হারাল।
১৯৮৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ব্রাম্মাচারিগাল’ ছবির মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে পথচলা শুরু করেছিলেন কে রাজন। পরে তিনি ‘নাম্মা ওরু মারিয়াম্মা’ ছবির পরিচালনাও করেন। তাঁর প্রযোজিত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘ডাবল্স’, ‘আভাল পাভাম’ এবং ‘নিনাইক্কাথা নালিল্লাই’। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বহু নতুন শিল্পী ও প্রযুক্তিবিদদের সুযোগ করে দিয়েছিলেন বলেও ইন্ডাস্ট্রির অনেকে মনে করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তাঁর পুত্র প্রভুকান্তকে রেখে গিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.