ত্বিশা শর্মা-র রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে তরুণীর দেহ উদ্ধারের পর দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর স্বামী সমর্থ সিংহ এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে পণের দাবিতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছে ত্বিশার পরিবার। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মৃত্যুর পর ত্বিশার পরিচিত মহল ও প্রাক্তন সহকর্মীদের বক্তব্যে উঠে আসছে এক অন্য ছবি। অভিনয়জগতের পাশাপাশি পড়াশোনা এবং কর্পোরেট কেরিয়ার— দুই ক্ষেত্রেই নিজের পরিচয় তৈরি করতে চেয়েছিলেন তিনি। কাছের মানুষদের দাবি, সংসার ও পেশাগত দায়িত্ব সামলাতেই ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হন ত্বিশা।
ত্বিশার সঙ্গে একটি তেলুগু ছবিতে কাজ করেছিলেন অভিনেতা দীক্ষিত শেট্টী। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ত্বিশা ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং পরিশ্রমী এক তরুণী। তাঁর কথায়, কাজের প্রতি ত্বিশার নিষ্ঠা ছিল চোখে পড়ার মতো। এমন একজন মানুষ আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা বিশ্বাস করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দীক্ষিত আরও জানান, ছবির কাজ শেষ হওয়ার পরে তাঁদের আর যোগাযোগ ছিল না। তাই গত ডিসেম্বর মাসে ত্বিশার বিয়ের খবরও তাঁর জানা ছিল না। অভিনেতার বক্তব্য, এই মৃত্যুসংবাদ তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।
ত্বিশার আরও কয়েক জন সহকর্মী জানিয়েছেন, অভিনয়ের বাইরেও জীবনে বড় কিছু করার স্বপ্ন ছিল তাঁর। উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই তিনি নতুন পথ বেছে নিয়েছিলেন। তবে তাঁর এই অকালমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিচিত মহল।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১২ মে রাতে ভোপালের শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিশার দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী সমর্থ সিংহ ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই ত্বিশার উপর নির্যাতন চলছিল। বর্তমানে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা পুরো ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.