গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো পাকা আমের মৌসুম। আমপ্রেমীরা ফলের রস, শরবত, আমডাল কিংবা কাঁচা আমের টক— নানা উপায়ে এই ফল উপভোগ করেন। কিন্তু আম খাওয়ার পর তার আঁটি সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়। অনেকের ধারণা, এর বিশেষ কোনও ব্যবহার নেই। অথচ আয়ুর্বেদের মতে, আমের আঁটিতেও লুকিয়ে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগুণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকা আমের আঁটি শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীরের নানা সমস্যায় উপকার মিলতে পারে। বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজমের সমস্যা কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এটি কার্যকর বলে মনে করা হয়।
কীভাবে তৈরি করবেন আমের আঁটির গুঁড়ো?

প্রথমে পাকা আমের আঁটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর রোদে শুকিয়ে সম্পূর্ণ শক্ত করে ফেলতে হবে। রোদ না থাকলে এয়ারফ্রায়ারেও শুকিয়ে নেওয়া যায়। শুকনো আঁটি গুঁড়ো করে কাচের বয়ামে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
এই গুঁড়ো হালকা গরম জলে মিশিয়ে খাওয়া যায়। আবার রুটির আটার সঙ্গে মিশিয়েও ব্যবহার করা সম্ভব। কেউ কেউ শুকনো টুকরো হালকা ভেজে স্ন্যাক্স হিসেবেও খান।
সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকেই পাকা আম খেতে ভয় পান, কারণ এতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তবে আমের আঁটির গুঁড়ো নিয়ে আয়ুর্বেদে ভিন্ন মত রয়েছে। এতে থাকা ম্যাঞ্জিফেরিন নামের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি উপকারী হতে পারে।
হজম ও পেটের সমস্যায় উপকার
আমের আঁটিতে ভিটামিন সি, ফ্ল্যাভনয়েড এবং ফেনোলিক যৌগ থাকে, যা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। ডায়রিয়া, আমাশয় কিংবা অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাতেও এটি উপকারী বলে আয়ুর্বেদে উল্লেখ রয়েছে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য
অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় আমের আঁটির গুঁড়ো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত সেবনে শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা
কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আমের আঁটির নির্যাস শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও এর সম্ভাব্য ভূমিকা রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কোনও ভেষজ উপাদানই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। যাঁদের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এই ধরনের উপাদান খাদ্যতালিকায় যোগ করা উচিত।