ছেঁড়া-ভেজা নোটের ঝামেলা শেষ! ভারতে আসতে পারে প্লাস্টিকের টাকা, বড় পরিকল্পনায় RBI

দেশজুড়ে এখনও নগদ লেনদেনের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু সাধারণ মানুষের অন্যতম বড় সমস্যা হল ছেঁড়া, ময়লা বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট। বাস, অটো, ছোট দোকান কিংবা বাজারে এমন নোট গ্রহণ করতে অনেকেই আপত্তি জানান। বিশেষ করে ১০ ও ২০ টাকার নোট দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের।

এই পরিস্থিতিতে আরও টেকসই মুদ্রা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলকভাবে বা পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে পলিমার ব্যাঙ্কনোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

কেন পলিমার নোটের কথা ভাবছে RBI?

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নতুন নোট ছাপানোর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নোট মুদ্রণের জন্য RBI-এর ব্যয় ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আগের অর্থবর্ষে এই খরচ ছিল ৫,১০১.৪ কোটি টাকা। ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং দীর্ঘস্থায়ী নোটের প্রয়োজনীয়তার কারণে পলিমার নোটের বিষয়টি আবার গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাগজের নোট দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বারবার নতুন নোট ছাপাতে হয়। অন্যদিকে পলিমার নোট অনেক বেশি সময় ব্যবহারযোগ্য থাকে, ফলে দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমানো সম্ভব হতে পারে।

পলিমার নোট কী?

পলিমার নোট মূলত বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক-ভিত্তিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় এগুলি অনেক বেশি শক্তপোক্ত এবং টেকসই। বিশেষ ধরনের পলিপ্রপেলিন ফিল্মের উপর উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে এই নোট তৈরি করা হয়।

এই নোটের অন্যতম বড় সুবিধা হল—

– সহজে ছিঁড়ে যায় না।
– জল লাগলেও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম।
– বারবার ভাঁজ করলেও দ্রুত ক্ষয় হয় না।
– নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা তুলনামূলক সহজ।
– দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পলিমার নোট সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় প্রায় আড়াই থেকে চার গুণ বেশি সময় টিকে থাকতে পারে।

বিশ্বের কোন কোন দেশে ব্যবহার হচ্ছে?

পলিমার নোট নতুন কোনও ধারণা নয়। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম এই ধরনের নোট চালু করে। পরে বিশ্বের বহু দেশ একই পথ অনুসরণ করে।

বর্তমানে কানাডা, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, ভিয়েতনাম, রোমানিয়া, ব্রুনেই, নিকারাগুয়া, পাপুয়া নিউগিনি এবং মালদ্বীপ-সহ একাধিক দেশে পলিমার ব্যাঙ্কনোট ব্যবহৃত হচ্ছে।

পরিবেশের জন্যও কি উপকারী?

সাধারণ কাগজের নোট তৈরিতে তুলা, জল এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। এর ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত প্রভাব তৈরি হতে পারে। পলিমার নোট দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক নোট ছাপাতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ ব্যবহারের চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আগে কি এমন পরিকল্পনা ছিল?

হ্যাঁ, এর আগেও RBI পলিমার নোট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। ২০০৯ সালে ১০ টাকার পলিমার নোট পরীক্ষামূলকভাবে চালুর একটি প্রস্তাব সামনে আসে। পরবর্তীতে দেশের কয়েকটি শহরে সীমিত পরিসরে পলিমার নোট চালুর পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

এবার কি সত্যিই আসছে প্লাস্টিকের নোট?

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবুও RBI পরীক্ষামূলকভাবে পলিমার নোট চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ভারতীয় মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

সাধারণ মানুষের জন্য এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে—ছেঁড়া, ভেজা বা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া নোটের সমস্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রণ খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক