এক দিনে ২৮টি গান রেকর্ড করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড: কে এই গায়ক? বলুনতো

ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ইতিহাসে নব্বইয়ের দশককে অনেকেই ‘মেলোডির স্বর্ণযুগ’ বলে অভিহিত করেন। আর সেই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ছিলেন কুমার শানু। ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম’, ‘মেরা দিল ভি কিতনা পাগল হ্যায়’ কিংবা ‘বাস এক সনম চাহিয়ে’—এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে তিনি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। তবে তাঁর সাফল্যের ঝুলিতে শুধু জনপ্রিয় গানই নয়, রয়েছে একটি অনন্য বিশ্বরেকর্ডও।

কুমার শানুর নাম বহু বছর ধরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর কারণ, তিনি একদিনে টানা ২৮টি গান রেকর্ড করে এক বিরল কীর্তি গড়েছিলেন। জানা যায়, দীর্ঘ বিদেশ সফরে যাওয়ার আগে জমে থাকা রেকর্ডিংয়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্যেই তিনি এই অসাধারণ কাজটি সম্পন্ন করেন। সঙ্গীত জগতে এমন অর্জন খুব কম শিল্পীর পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।

কলকাতায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর প্রকৃত নাম ছিল শানু ভট্টাচার্য। সঙ্গীতজগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার শুরুর দিকে কিংবদন্তি সঙ্গীত পরিচালক জুটি কল্যাণজি-আনন্দজির নজরে আসে তাঁর প্রতিভা। তাঁর গায়কির মধ্যে কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারের প্রভাব লক্ষ্য করে তাঁকে নতুন নাম গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই পরামর্শ মেনেই তিনি ‘কুমার শানু’ নামে পরিচিতি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে এই নামই হয়ে ওঠে ভারতীয় সঙ্গীতের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।

১৯৯০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আশিকি’ চলচ্চিত্র তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ছবিটির গান দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং কুমার শানুকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর একের পর এক সুপারহিট গানের মাধ্যমে তিনি বলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তাঁর সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ফিল্মফেয়ার সেরা পুরুষ কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার অর্জন করেন। ধারাবাহিক এই সাফল্য ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। একই শিল্পীর হাতে পরপর পাঁচ বছর এই সম্মান ওঠা তাঁর জনপ্রিয়তা ও দক্ষতারই প্রমাণ।

তবে কুমার শানুর ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিকও বিশেষভাবে প্রশংসিত। টানা পাঁচবার পুরস্কার জয়ের পর পরবর্তী বছরেও মনোনয়ন পাওয়া সত্ত্বেও তিনি পুরস্কার গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, নতুন ও প্রতিভাবান শিল্পীদের সামনে এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হওয়া উচিত। এই সিদ্ধান্ত সঙ্গীতমহলে তাঁর উদার মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

নব্বইয়ের দশকে বলিউডের প্রায় সব শীর্ষ অভিনেতার জন্যই তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। শুধু হিন্দি নয়, বাংলা-সহ ভারতের ১৫টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়ে তিনি নিজেকে বহুমাত্রিক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কয়েক দশক ধরে ভারতীয় সঙ্গীতাঙ্গনে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার ২০০৯ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।

গিনেস রেকর্ড, অসংখ্য জনপ্রিয় গান, ধারাবাহিক পুরস্কার এবং দীর্ঘ সংগীতজীবনের সাফল্য—সব মিলিয়ে কুমার শানু ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গীত ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তাঁর গান আজও নতুন ও পুরোনো প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়, যা তাঁর শিল্পীসত্তার কালজয়ী শক্তিরই প্রমাণ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক