সালোঁ থেকে চুলে রং করিয়ে আসার পর আয়নায় নিজের নতুন লুক দেখে মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কয়েক দিনের মধ্যেই সেই উজ্জ্বলতা কমতে শুরু করে। কখনও রং ফিকে হয়ে যায়, কখনও আবার রঙের আসল শেড বদলে যায়। ফলে সময় ও অর্থ ব্যয় করে করানো হেয়ার কালার বেশিদিন উপভোগ করা সম্ভব হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলে রং দীর্ঘদিন ধরে রাখতে হলে শুধু রং করালেই হবে না, তার আগে ও পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলতে হবে।
রং করার আগে চুল প্রস্তুত করুন

চুলে রং ভালোভাবে বসার জন্য মাথার ত্বক ও চুল পরিষ্কার থাকা জরুরি। রং করানোর এক বা দুই দিন আগে ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল, ধুলোবালি, স্টাইলিং প্রোডাক্টের অবশিষ্টাংশ এবং পুরনো রঙের স্তর দূর হতে পারে। এতে নতুন রং আরও সমানভাবে বসার সুযোগ পায়।
ফাটা ডগা ছেঁটে ফেলুন
চুলের ডগা যদি শুষ্ক, ফাটা বা অতিরিক্ত পাতলা হয়ে যায়, তাহলে সেই অংশে রং সমানভাবে বসে না। অনেক সময় রং করলেও চুলের শেষ অংশ দেখতে অনুজ্জ্বল লাগে। তাই রং করার আগে সামান্য ট্রিম করিয়ে নেওয়া ভালো। এতে চুল আরও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখায় এবং রঙের সৌন্দর্যও ফুটে ওঠে।
রং করার পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ
চুলে রং করার পরপরই শ্যাম্পু করে ফেললে রঙের স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত প্রথম ৭২ ঘণ্টা চুল না ধোয়ার পরামর্শ দেন। এই সময়ের মধ্যে রং চুলের কিউটিকলের ভেতরে আরও ভালোভাবে স্থিত হতে পারে, ফলে তা দ্রুত ফিকে হওয়ার আশঙ্কা কমে।
গরম জল এড়িয়ে চলুন
অনেকেই গরম জলে স্নান করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। কিন্তু অতিরিক্ত গরম জল চুলের কিউটিকল খুলে দিতে পারে, যার ফলে রং দ্রুত বেরিয়ে যেতে শুরু করে। তাই হেয়ার কালারের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে ঈষদুষ্ণ বা ঠান্ডা জল ব্যবহার করা বেশি উপকারী।
সঠিক শ্যাম্পু বেছে নিন
চুলে রং করার পর সাধারণ শ্যাম্পুর বদলে কালার-প্রটেক্ট বা সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু অনেক সময় চুলের রং দ্রুত হালকা করে দেয়। রঙিন চুলের জন্য তৈরি বিশেষ ফর্মুলার শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করলে রঙের উজ্জ্বলতা দীর্ঘদিন বজায় রাখা সম্ভব।
কেন রঙের যত্ন জরুরি?
হেয়ার কালার শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, ব্যক্তিত্বের প্রকাশও বটে। তাই রং করার পর সঠিক পরিচর্যা না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কয়েকটি সহজ অভ্যাস— যেমন সঠিক শ্যাম্পু ব্যবহার, গরম জল এড়ানো এবং চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখা— মেনে চললে আপনার পছন্দের হেয়ার কালার অনেক বেশি দিন প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় থাকবে।