রাজ্যসভা ও তৃণমূল ছাড়লেন সুখেন্দুশেখর রায়, দুর্নীতি ও দলীয় কার্যপ্রণালী নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক সুখেন্দুশেখর রায়। সোমবার তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং দুর্নীতি ইস্যুতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

সুখেন্দুশেখর রায়ের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ধাক্কার পর দলের মধ্যে যে ধরনের আত্মসমালোচনা বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ হওয়া প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন কমিটি ও সাংগঠনিক স্তরে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মতামত যথাযথভাবে গুরুত্ব পেত না। ফলে দলের ভেতরে অসন্তোষ থাকলেও অনেকেই তা প্রকাশ্যে আনতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, জনগণের এই অনাস্থা ইঙ্গিত দেয় যে দল ধীরে ধীরে জনমানসের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই উপলব্ধিই তাঁকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে বলে জানান তিনি।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে সুখেন্দুশেখর রায় দাবি করেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কিছু বিতর্কিত ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। তিনি ২০১১ সালের পরবর্তী সময়ের কয়েকটি বহুল আলোচিত ঘটনাকে উল্লেখ করে বলেন, সেগুলি নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে চিটফান্ড সংস্থার সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে অতীতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।

একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা ছবি বিক্রি নিয়ে অতীতে যে বিতর্ক হয়েছিল, সেটিকেও সামনে আনেন প্রাক্তন সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও চিটফান্ড কর্ণধারদের ছবি কেনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। সুখেন্দুশেখরের বক্তব্য, এসব ঘটনাই পরবর্তীকালে দুর্নীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করে তোলে।

তিনি আরও দাবি করেন, দলের মূল লক্ষ্য আদর্শভিত্তিক রাজনীতি নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করা ছিল। যদিও সেই সময় দলের অনেক সদস্য বা সমর্থক বিষয়টির গভীরতা উপলব্ধি করতে পারেননি বলে তাঁর মন্তব্য। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিতর্ক এবং অভিযোগের জেরে দুর্নীতি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সুখেন্দুশেখর রায়ের এই পদত্যাগ এবং তাঁর করা বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর মতো দীর্ঘদিনের নেতা ও সাংসদের দলত্যাগ তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক