সদ্য দ্বিতীয়বার মা হয়েছেন অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টোরাজ(Sreemoyee Chattoraj)। প্রথম সন্তান কৃষভিও এখনও খুব ছোট—মাত্র ২০ মাস বয়স। এর মধ্যেই মাতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন মায়েদের পাশে থাকার জন্য পরিবারের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন শ্রীময়ী(Sreemoyee Chattoraj)।
দ্বিতীয়বার মা হওয়ার পর শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি মানসিক পরিবর্তনেরও মুখোমুখি হয়েছেন শ্রীময়ী। ভিডিয়োতে তিনি জানান, প্রথম সন্তান কৃষভির জন্মের পর থেকেই তাঁর মধ্যে মুড সুইং এবং অকারণে কান্না পাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সাধারণত খুব একটা কান্নাকাটি করেন না তিনি, এমনকি জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেকে দুর্বল হতে দেননি। কিন্তু সন্তান জন্মের পর পরিস্থিতি ছিল কিছুটা আলাদা। শ্রীময়ীর কথায়, পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন অনেকটাই হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে তাঁর এই সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছিল। দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে সেই অনুভূতি কিছুটা কম হলেও পুরোপুরি যে নেই, তা নয়। তবে এবার মেয়ে কৃষভি তাঁকে অনেকটাই ব্যস্ত রাখছে বলেই মন খারাপ করার সুযোগ কম পাচ্ছেন তিনি।
পোস্টপার্টাম সময়কালে পরিবারের সহযোগিতা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তুলে ধরেছেন শ্রীময়ী। বিশেষ করে স্বামী কাঞ্চনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। শ্রীময়ী জানান, সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রেও কাঞ্চন কখনও তাঁর উপর কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি। বরং তিনি প্রস্তুত কিনা, নিজের শরীর ও মানসিক অবস্থার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কিনা—সেই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও শ্রীময়ীর শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিলেন কাঞ্চন।
অভিনেত্রীর মতে, সদ্য মা হওয়া একজন মহিলার জন্য স্বামীর মানসিক সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় কোনও কিছু জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে তাঁর কথা শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পাশে থাকাই সবচেয়ে বড় সহযোগিতা।
‘ঘরবন্দি হয়ে থাকিনি’, জানালেন শ্রীময়ী
সন্তান জন্মের পর প্রচলিত নানা কুসংস্কারের কারণে নিজেকে সম্পূর্ণ ঘরবন্দি করে রাখেননি শ্রীময়ী। ঈশ্বরে বিশ্বাস থাকলেও কুসংস্কারে বিশ্বাসী নন বলেই জানিয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে কাঞ্চনও তাঁর সঙ্গে সহমত।
দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর যখন মন খারাপ হয়েছিল, তখন তাঁকে বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন কাঞ্চন। দু’জনে কফি খেতে বেরিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্যও বাইরে গিয়েছেন। তবে বাইরে বেরোলেও শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে যথেষ্ট সতর্ক থাকছেন তাঁরা। শ্রীময়ী জানিয়েছেন, বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে তিনি নিজেকে স্যানিটাইজ করছেন এবং স্নান করছেন। সদ্যোজাত সন্তানের ঘরেও বাইরের কাউকে ঢুকতে দিচ্ছেন না। বাড়ির ছোট্ট সদস্য কৃষভি সেই ঘরে গেলে তার হাতও স্যানিটাইজ করে দেওয়া হচ্ছে।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শ্রীময়ীর বার্তা, সদ্য মা হওয়া মহিলাদের শুধু সন্তান নয়, তাঁদের শরীর ও মনেরও সমান যত্ন প্রয়োজন। তাঁর মতে, নতুন মায়ের জন্য সদ্যোজাত শিশুর প্রয়োজন বুঝে ওঠাও অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। এমনকী, দ্বিতীয়বার মা হওয়ার পরও কখনও কখনও সন্তানের প্রয়োজন বুঝতে তাঁর অসুবিধা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাই শাশুড়িদের উদ্দেশে বউমাদের এবং মায়েদের উদ্দেশে মেয়েদের আরও বেশি যত্ন নেওয়ার আবেদন করেছেন শ্রীময়ী। তাঁর কথায়, এই সময় নতুন মায়ের পাশে পরিবারকে আরও বেশি করে দাঁড়াতে হবে।
‘একজন নতুন মায়ের চোখেমুখে ক্লান্তি থাকবেই’
নিজের ভিডিয়ো পোস্টের ক্যাপশনেও মাতৃত্বের ক্লান্তির কথা তুলে ধরেছেন শ্রীময়ী। নিজের মুখের ক্লান্ত ভাবকে উপেক্ষা করে ভিডিয়োর বক্তব্য শোনার অনুরোধ করেছেন তিনি। পাশাপাশি জানিয়েছেন, পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের সময় তিনি নিজেকে কীভাবে সামলান, সেই অভিজ্ঞতাই অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছেন।
শ্রীময়ীর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে মাতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—সন্তানের যত্নের পাশাপাশি নতুন মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেওয়া এই বার্তা নতুন মায়েদের পরিবার এবং কাছের মানুষদের জন্যও নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.