অনেক ভারতীয় পরিবারের মতো বাঙালি সংস্কৃতিতেও খাবার শেষে অল্প করে মৌরি খাওয়ার প্রচলন বহুদিনের। বিশেষ করে মাছ, মাংস বা তেল-মশলাযুক্ত ভারী খাবারের পর এক চিমটি ভাজা মৌরি মুখে দিলে অনেকেই স্বস্তি অনুভব করেন। শুধু মুখের স্বাদ বদলানোই নয়, এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত কারণও।
মৌরি প্রাকৃতিকভাবে এমন কিছু উপাদানে সমৃদ্ধ, যা পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। ভারী খাবার খাওয়ার পর অনেকের পেট ভার লাগা, গ্যাস বা অস্বস্তির সমস্যা দেখা দেয়। এই অবস্থায় সামান্য মৌরি চিবিয়ে খেলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং পেট ফাঁপার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।
এছাড়াও মৌরিতে রয়েছে পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ বা ফাইবার, যা অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে মৌরি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমতে পারে এবং বিপাকক্রিয়াও স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও মৌরি কার্যকর বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে মশলাদার বা পেঁয়াজ-রসুনযুক্ত খাবারের পরে এটি মুখে একটি সতেজ অনুভূতি এনে দেয়। পাশাপাশি মৌরি লালারস নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে মুখ অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাও কিছুটা কমে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌরিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করতে পারে। এতে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান প্রদাহ কমাতেও ভূমিকা রাখে।
তবে মৌরি খাওয়ার ক্ষেত্রেও সঠিক পদ্ধতি মেনে চলা জরুরি। শুকনো কড়াইয়ে অল্প আঁচে হালকা ভেজে নিলে এর সুগন্ধ ও স্বাদ বৃদ্ধি পায়। তবে বেশি ভাজা হলে পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে। অনেকেই লেবুর রস মিশিয়ে সংরক্ষণ করেন, কিন্তু এতে আর্দ্রতা তৈরি হয়ে দীর্ঘদিন রাখলে মৌরি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
খাবারের শেষে অল্প পরিমাণ শুকনো ভাজা মৌরি খাওয়াই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস। তবে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাঁদের বিশেষ শারীরিক সমস্যা বা ওষুধ চলমান রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ছোট্ট এই মসলাটি শুধু মুখশুদ্ধির উপাদান নয়, বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে হজম ও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও কার্যকর সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.