জামাইষষ্ঠী বাঙালির অন্যতম পারিবারিক উৎসব। এই বিশেষ দিনে জামাইকে কেন্দ্র করে নানা পদ রান্না, পারিবারিক আড্ডা এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়েই উৎসবের আবহ তৈরি হয়। এ বছরও সেই ছবিই ধরা পড়ল টলিপাড়ার একাধিক তারকা পরিবারের আয়োজনে।
অভিনেতা গৌরব চক্রবর্তী ও ঋদ্ধিমা ঘোষের পরিবারে প্রতি বছরের মতো এবারও ছিল বিশেষ আয়োজন। আগে গৌরবের জন্য তাঁর শাশুড়ি পছন্দের পাঁঠার মাংস রান্না করতেন। এখন সেই দায়িত্ব নিয়েছেন ঋদ্ধিমা নিজেই। পাশাপাশি পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিচিত এক রাঁধুনিও নানা পদ তৈরি করেন। তবে এ বছরের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ঋদ্ধিমার বাবা বিশাখ কুমার ঘোষের হাতের রান্না। প্রথমবার জামাইয়ের জন্য তিনি নিজে কষিয়ে পাঁঠার মাংস রান্না করেন, যা নিয়ে গৌরবও ছিলেন দারুণ উৎসাহী।
গৌরব ও তাঁর শ্বশুরের সম্পর্ক বহুদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ। কঠিন সময়েও সেই সম্পর্কের উষ্ণতায় ভাটা পড়েনি। করোনা পরিস্থিতিতে যখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হয়েছিল, তখনও জামাইয়ের পছন্দের নানা খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল তাঁর বাড়িতে। পরে ভিডিও কলেই সম্পন্ন হয়েছিল আশীর্বাদের অনুষ্ঠান।
এই পরিবারের কাছে খাওয়া-দাওয়া শুধু উৎসবের অংশ নয়, বরং পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ। সপ্তাহে অন্তত একদিন সবাই একত্রিত হয়ে আড্ডা দেন। পরিবারের নতুন সদস্য ছোট্ট ধীরকে ঘিরেও এখন আনন্দ আরও বেড়েছে।
এবারের জামাইষষ্ঠীর মেনুতেও ছিল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা পদ—সরু চালের ভাত, শুক্তো, পাঁচ ধরনের ভাজা, সবজি দিয়ে মুগের ডাল, আলুভাজা, মোচার চপ, পটল-চিংড়ি, সর্ষে পাবদা, বাসন্তী পোলাও, পাঁঠার মাংস, চাটনি, পায়েস ও বিভিন্ন মিষ্টি।
অন্যদিকে, পিসি সরকার জুনিয়রের পরিবারেও এ বছর উৎসবের আমেজ ছিল বিশেষ। সম্প্রতি মেয়ে মৌবনীর বিয়ে হওয়ায় নতুন জামাই সৌম্যের প্রথম জামাইষষ্ঠীকে ঘিরে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস। জামাইয়ের পছন্দের কথা মাথায় রেখে তাঁর জন্য নিজের হাতে সর্ষে ইলিশ রান্না করেন শাশুড়ি। পরিবারের অন্য সদস্যেরাও অতিথি আপ্যায়নের দায়িত্ব ভাগ করে নেন।
নতুন জামাইয়ের জন্য সাজানো হয়েছিল বর্ণাঢ্য মেনু—গরম ভাত, বাসন্তী পোলাও, গন্ধরাজ চিকেন ফ্রাই, শুক্তো, পাঁচ ধরনের ভাজা, মুগের ডাল, আলুভাজা, ইলিশের মাথা দিয়ে কচুশাক, সর্ষে ইলিশ, পাবদার ঝাল, চাটনি, পায়েস ও মিষ্টি।
বিয়ের আগে রান্নায় বিশেষ অভ্যস্ত না হলেও, ভোজনরসিক স্বামীর জন্য এখন নিয়মিত নতুন নতুন পদ রাঁধতে শিখেছেন মৌবনী। তবে জামাইষষ্ঠীর দিনটি সম্পূর্ণভাবে শাশুড়ির হাতে তৈরি খাবারের জন্যই বিশেষ হয়ে ওঠে।
প্রবীণ অভিনেতা দীপঙ্কর দে এবং অভিনেত্রী দোলন রায়ের কাছেও জামাইষষ্ঠী স্মৃতিময় একটি উপলক্ষ। ২০২০ সালে বিয়ের পর থেকে দোলনের মা নিয়মিত এই অনুষ্ঠান পালন করতেন। বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় রেস্তরাঁয় গিয়ে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। তবে পারিবারিক আড্ডা ও একত্রে খাওয়ার রেওয়াজ এখনও অটুট রয়েছে।
এক বিশেষ আয়োজনে দীপঙ্করের জন্য তৈরি হয়েছিল চিংড়ির নানা পদ। মেনুতে ছিল ভাত, মিষ্টি পোলাও, শুক্তো, পাঁচ রকমের ভাজা, সোনা মুগের ডাল, আলুভাজা, লাউ-চিংড়ি, ফিশ ফ্রাই, চিংড়ির মালাইকারি, সর্ষে পাবদা, আমের চাটনি, পাঁপড়, পায়েস এবং মিষ্টি।
এই ভুরিভোজের মধ্যেই পুরনো স্মৃতিতে ডুব দেন দীপঙ্কর। তিনি স্মরণ করেন, একসময় চলচ্চিত্রের খাওয়াদাওয়ার দৃশ্যের শুটিংয়ে সত্যিকারের গরম খাবার দিয়ে সাজানো হত টেবিল। দৃশ্য ধারণের পর সেই খাবার নিয়েই শিল্পীদের মধ্যে জমে উঠত আনন্দঘন ভোজ। খাবার, গল্প আর একসঙ্গে থাকার আনন্দ—এই তিনের মেলবন্ধনেই যেন বাঙালির জামাইষষ্ঠী আজও সমানভাবে জীবন্ত।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.