তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো ভেঙে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতাজুড়ে নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, ভেঙে পড়া কাঠামোর ভিতরে ১২ থেকে ১৫ জন আটকে থাকতে পারেন। উদ্ধারকারীরা রাত পর্যন্ত তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, কলকাতা পুর এলাকার সমস্ত নির্মাণকাজ আপাতত ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বিশেষ করে আগের তৃণমূল সরকারের আমলে অনুমোদিত নির্মীয়মাণ ভবন ও বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার একটি বিশেষ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করছে। পূর্ত দফতর, অসামরিক প্রতিরক্ষা, দমকল, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধিরা এই কমিটিতে থাকবেন। তারা প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্পের নকশা, নির্মাণ পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা বিধি অনুসরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। নির্ধারিত নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে বলে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি ১ অগস্ট থেকে পুনরায় নির্মাণ শুরু করার অনুমতি পাবে।
তবে জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত নির্মাণকাজ এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারের বিশেষ নজরে থাকবে বাণিজ্যিক নির্মাণ এবং এমন প্রকল্প, যেখানে জলাশয় ভরাট করে নির্মাণকাজের অভিযোগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতার পর একই ধরনের পর্যালোচনা কর্মসূচি হাওড়া এবং বিধাননগর পুর এলাকাতেও চালু করা হতে পারে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তারাতলার যে গুদামটি ধসে পড়েছে, তার নির্মাণ নকশা চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি অনুমোদন পেয়েছিল। জমিটি বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ়ে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে একটি বেসরকারি সংস্থার তরফে নির্মাণকাজ চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুরসভার প্রকৌশলীরা নকশাগত ত্রুটির ইঙ্গিত পেয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজ্য সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ, দমকল, অসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং পরে সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। প্রশাসনের দাবি, দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু না হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে জল এবং অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তারাতলার এই দুর্ঘটনা কলকাতার নির্মাণ নিরাপত্তা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সেই কারণেই রাজ্য সরকার শহরের সমস্ত নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তা এবং নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে কি না, তা নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.