বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো চোখেও স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন আসে। অনেকের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়, কারও ছানি পড়ে, আবার কেউ গ্লকোমা বা রেটিনার জটিল সমস্যায় ভোগেন। ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা কোলেস্টেরলের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুখ থাকলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তবে গবেষকদের দাবি, নতুন এক পরীক্ষামূলক থেরাপি ভবিষ্যতে বয়সজনিত চোখের নানা সমস্যার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
কী এই ‘এআর-১০০’ থেরাপি?
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন-ভিত্তিক বায়োটেক সংস্থা লাইফ বায়োসায়েন্সেস ‘এআর-১০০’ নামে একটি নতুন থেরাপি নিয়ে গবেষণা করছে। বর্তমানে এটি মানুষের উপর প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে। প্রথম ধাপে গ্লকোমা এবং বয়সজনিত অপটিক নার্ভের ক্ষতিতে আক্রান্ত রোগীদের উপর এই চিকিৎসা প্রয়োগ করা হচ্ছে।

গবেষকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এই থেরাপি চোখের ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে। ভবিষ্যতে এটি সফল হলে বয়সের কারণে দুর্বল হয়ে যাওয়া চোখের কোষকে পুনরুজ্জীবিত করে দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই দাবি এখনও গবেষণাধীন এবং বৃহত্তর পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া বাকি।
কোন কোন সমস্যায় উপকার মিলতে পারে?
১. ছানি:
গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এই থেরাপি ছানির চিকিৎসায়ও কাজে লাগতে পারে। যদিও বর্তমানে ছানির সবচেয়ে কার্যকর ও প্রমাণিত চিকিৎসা হল অস্ত্রোপচার, তবু নতুন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।
২. গ্লকোমা:
গ্লকোমায় চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে স্থায়ী দৃষ্টিহানি পর্যন্ত হতে পারে। ‘এআর-১০০’ এই ক্ষতি কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
৩. বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (AMD):
৫০ বছরের পর এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এতে রেটিনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। গবেষকেরা মনে করছেন, নতুন থেরাপি এই রোগের চিকিৎসাতেও কার্যকর হতে পারে।
৪. ডায়াবেটিক ম্যাকুলার এডিমা:
ডায়াবিটিসের কারণে রেটিনায় তরল জমে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রাথমিক গবেষণায় এই সমস্যার ক্ষেত্রেও ‘এআর-১০০’-এর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখনও গবেষণার পর্যায়েই
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই থেরাপি নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কারণ থাকলেও এটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। তাই আপাতত ছানি, গ্লকোমা বা অন্য কোনও চোখের সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রচলিত চিকিৎসাই অনুসরণ করা উচিত।
চোখ ভালো রাখতে কী করবেন?
*বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করান, বিশেষ করে বয়স ৪০ পেরোলে।
*ডায়াবিটিস, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
*পুষ্টিকর খাবার ও সবুজ শাকসবজি বেশি খান।
*ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
*দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নিয়মিত বিরতি নিন।
চোখের বার্ধক্য থামানোর লক্ষ্য নিয়ে ‘এআর-১০০’ থেরাপি এখনও গবেষণাধীন। ভবিষ্যতে এটি সফল হলে বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.