পাকিস্তানে তালিবানের পাল্টা হামলা! আইএস ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি, নিহত জঙ্গিরা

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। তালিবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের ভেতরে ইসলামিক স্টেট খোরাসন (আইএস-কে)-এর একাধিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এই হামলা করা হয়েছে।

আফগানিস্তানের সরকারি অবস্থান তুলে ধরে দেশটির সংবাদমাধ্যম টোলোনিউজ জানায়, এই অভিযানকে ‘প্রত্যাঘাতমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কাবুল। তালিবান সরকারের অভিযোগ, পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে আফগানিস্তানে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সেই কারণেই সীমান্তের ওপারে এমন সব জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে আইএস-কে জঙ্গিরা হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করছিল বলে তাদের দাবি।

তালিবান প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বালুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়ার সারান এলাকার একটি স্কুলকে আইএস-কে-র ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সেই স্থাপনাতেই বিমান হামলা চালানো হয়। তালিবান জানিয়েছে, অভিযানে বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতি এড়ানোর জন্য বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, এই হামলায় কোনও বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়নি।

তবে পাকিস্তান সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের এই দাবির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তালিবানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে করাচির একটি আধাসামরিক ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় তিন পাকিস্তানি সেনাকর্মীর মৃত্যু হয়। হামলার সময় তিন হামলাকারীও নিহত হয় এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনার দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরার।

এরপর পাকিস্তান আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সামরিক অভিযান চালানোর কথা জানায়। ইসলামাবাদের দাবি, অভিযানে জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে স্থল ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে হামলা চালায় এবং অন্তত ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়।

অন্যদিকে আফগানিস্তান অভিযোগ করে, পাকিস্তানের ওই অভিযানে বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তালিবান সরকারের দাবি, হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তান জানিয়েছে, নিহতরা সবাই সশস্ত্র জঙ্গি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তালিবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লা ফিতরাত আগেই জানিয়েছিলেন, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যে কোনও সামরিক পদক্ষেপের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির মতে, সীমান্তের বাইরে সামরিক অভিযান চালিয়ে পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার দিক থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ভারত বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের জন্যই নয়, গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সামরিক তৎপরতা ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক