গত কয়েক মাস ধরে সোনার দামে লাগাতার চাপ দেখা যাচ্ছে। বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর পর এখন দ্রুত নিম্নমুখী হয়েছে মূল্য। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৮ সালের পর এত বড় মাসিক পতন খুব কমই দেখা গিয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, আবার অনেকেই এটিকে ভবিষ্যতের কেনার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।
চলতি বছরের শুরুতে এমসিএক্সে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৯৩ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছিল। সেই উচ্চতা থেকে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও স্পট গোল্ডের দর জুন মাস জুড়ে বড়সড় পতনের মুখে পড়েছে। ফলে টানা কয়েক মাস ধরে সোনায় বিনিয়োগকারীরা নেতিবাচক রিটার্নের মুখোমুখি হচ্ছেন।
কেন কমছে সোনার দাম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু থাকার সম্ভাবনা। সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

এর পাশাপাশি শক্তিশালী মার্কিন ডলারও সোনার উপর চাপ তৈরি করছে। ডলারের দাম বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা তুলনামূলকভাবে বেশি দামে পড়ে, ফলে চাহিদা কিছুটা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বাজারে প্রভাব ফেলছে।
সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা কিছুটা বাড়লেও সেই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার ফলে আবার মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ বেড়েছে, যা বাজারের মনোভাবে নতুন চাপ তৈরি করেছে।

এখন নজরে কোন বিষয়?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে মার্কিন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সূচক সোনার দামের দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নন-ফার্ম পেরোল (Non-Farm Payroll) রিপোর্ট এবং আইএসএম ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই (ISM Manufacturing PMI)-এর ফলাফলের দিকে বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন। এই তথ্যগুলির ভিত্তিতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে।

এখন কি সোনা কেনার সময়?
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন। যদি মার্কিন শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয় বা মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করে, তাহলে সোনার দাম আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে বিপরীত পরিস্থিতিতে দাম আরও কিছুটা কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্তরের দিকে নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি সেই স্তরের নীচে দাম নেমে যায়, তাহলে আরও বড় সংশোধন দেখা যেতে পারে। তাই এখন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।প্রয়োজনে এটি আরও সংবাদপত্রের স্টাইলে, SEO-ফ্রেন্ডলি বা ওয়েব পোর্টাল প্রকাশযোগ্য ফরম্যাটেও সাজিয়ে দিতে পারি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.