গ্রীষ্মের দাবদাহে বাইরে কয়েক মিনিট থাকলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। সেই অবস্থায় হঠাৎ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে প্রবেশ করলে শরীর যেমন তাপমাত্রার পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়, তেমনি এর প্রভাব পড়ে ত্বকের উপরেও। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় এসির ঘরে কাজ করলে অনেকের ত্বক শুষ্ক, নিষ্প্রাণ এবং টানটান অনুভূত হতে শুরু করে।
এই সমস্যা এড়াতে প্রতিদিনের রুটিনে কয়েকটি সহজ অভ্যাস যোগ করলেই ত্বককে সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব।
দিনের শুরুতেই ত্বকের সঠিক পরিচর্যা

সকালে ঘুম থেকে উঠে ত্বকের জন্য মৃদু ও ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করে মুখ পরিষ্কার করা ভালো। বাইরে বেরোনোর আগে জেল-ভিত্তিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা মেলে। পাশাপাশি হালকা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজ়ার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রয়োজন হলে তার উপর হালকা মেকআপও করা যেতে পারে।
অফিসে পৌঁছে মুখ পরিষ্কার করুন
বাইরের ধুলো, ঘাম ও দূষণ ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই অফিসে পৌঁছে মুখ ও ঘাড় ধুয়ে নেওয়া বা মাইসেলার ওয়াটার দিয়ে পরিষ্কার করা উপকারী। এরপর নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করলে এসির শুষ্ক পরিবেশেও ত্বক আর্দ্র থাকে।
দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে থাকলে সতর্ক থাকুন
কম্পিউটার বা ল্যাপটপের পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো দীর্ঘ সময় ত্বকের উপর পড়লে তা ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিতে পারে। প্রয়োজন হলে ব্লু-লাইট সুরক্ষাযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া স্ক্রিনে ব্লু-লাইট ফিল্টার লাগানোও একটি কার্যকর উপায়।
অফিসের বিরতিতে মাত্র এক মিনিটের যত্ন
দিনের মাঝখানে অল্প সময় পেলেও ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরাম বা ফেস মিস্ট ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। এতে দিনের শেষে মুখ ক্লান্ত বা রুক্ষ দেখানোর প্রবণতা কমে।
ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখার ছোট্ট কৌশল
অনেক সময় এসির কারণে বাতাস অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে যায়। ডেস্কের উপর ছোট একটি পাত্রে জল রাখলে আশপাশের আর্দ্রতা কিছুটা বজায় থাকতে পারে, যা ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ঠোঁট ও হাতেরও প্রয়োজন আলাদা যত্ন
শুধু মুখ নয়, এসির পরিবেশে ঠোঁট ও হাতও দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। তাই ডেস্কে বা ব্যাগে লিপ বাম ও হ্যান্ড ক্রিম রাখলে প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা সহজ হয় এবং ত্বক নরম থাকে।
পর্যাপ্ত জল ও স্বাস্থ্যকর খাবার জরুরি
গরমে অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করা, ফল খাওয়া, ছাছ বা ফলের স্বাদযুক্ত স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ করা শরীর ও ত্বক—দুইয়ের জন্যই উপকারী। শরীরের ভেতর থেকে আর্দ্রতা বজায় থাকলে ত্বকও অনেক বেশি সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখায়।
শেষ কথা
গরমের বাইরে এবং অফিসের ঠান্ডা পরিবেশের মধ্যে বারবার যাতায়াত ত্বকের উপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক ময়েশ্চারাইজ়িং, পর্যাপ্ত জলপান এবং ছোট ছোট কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে সহজেই এই মৌসুমেও ত্বককে সুস্থ, কোমল ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.