প্রি-ডায়াবেটিসে কি আচমকা সুগার কমে যেতে পারে? কী বলছেন চিকিৎসকেরা

ডায়াবেটিস ধরা পড়ার আগে অনেকেই এমন একটি পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যান, যাকে বলা হয় প্রি-ডায়াবেটিস। এই অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে, কিন্তু তা এখনও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সীমা অতিক্রম করে না। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সময়মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তবে অনেকেরই প্রশ্ন, এই পর্যায়ে কি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ পরিস্থিতিতে এমন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম হলেও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা যেতে পারে।

কেন কখনও শর্করা কমতে পারে?

প্রি-ডায়াবেটিসে কি আচমকা সুগার কমে যেতে পারে? কী বলছেন চিকিৎসকেরা
প্রি-ডায়াবেটিসে কি আচমকা সুগার কমে যেতে পারে? কী বলছেন চিকিৎসকেরা

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, খাবার খাওয়ার পর শরীর কখনও কখনও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ইনসুলিন নিঃসরণ করতে পারে। ইনসুলিনের কাজ হলো রক্তে থাকা গ্লুকোজ কোষে পৌঁছে দেওয়া। যদি ইনসুলিনের পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে যায়, তাহলে খাবারের কয়েক ঘণ্টা পরে রক্তে শর্করার মাত্রা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। এই অবস্থাকে অনেক সময় রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়।
বিশেষ করে বেশি পরিমাণে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার পরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে থাকতে পারে।

কী ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

যদি সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা কমে যায়, তাহলে কয়েকটি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন—
*হাত-পা কাঁপা বা ঝিমঝিম করা
*মাথা ঘোরা
*দুর্বল লাগা
*অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
*হঠাৎ ক্ষুধা অনুভব করা
*অস্থিরতা বা মনোযোগে সমস্যা

তবে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলেই যে সুগার কমেছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়াই উচিত।

অন্য বিশেষজ্ঞদের মত কী?

আরও অনেক চিকিৎসকের মতে, প্রি-ডায়াবেটিসে সাধারণত রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। কারণ, শরীরে ইনসুলিনের পাশাপাশি গ্লুকাগন নামে একটি হরমোনও কাজ করে, যা রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে তা আবার বাড়াতে সাহায্য করে।
তাঁদের মতে, যাঁদের এখনও ডায়াবেটিসের ওষুধ শুরু হয়নি এবং যাঁদের খাদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক, তাঁদের ক্ষেত্রে হঠাৎ সুগার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

কখন রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত নিচের পরিস্থিতিতে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে—
*দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে
*ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক না থাকলে
*অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পর পর্যাপ্ত খাবার না খেলে
*প্রি-ডায়াবেটিসে সাধারণত ওষুধ ব্যবহার না হওয়ায় এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

প্রি-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?

এই পর্যায়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
*সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান।
*পর্যাপ্ত ফাইবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি খাদ্যতালিকায় রাখুন।
*পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও অতিরিক্ত চিনি কম খান।
*নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।
*ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
*পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিন।
*প্রয়োজন হলে নিয়মিত রক্তে শর্করার পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

উপসংহার
প্রি-ডায়াবেটিস মানেই যে হঠাৎ সুগার কমে যাবে, এমন নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকাই দেখা যায়। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে শর্করা কমতে পারে। তাই অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখলে প্রি-ডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিসে পৌঁছানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক