Annapurna Bhandar: রাজ্যের মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে স্বচ্ছতা আরও জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ পাবলিক পোর্টাল চালু করা হবে, যেখানে নির্দিষ্ট এলাকার প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এর ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি অযোগ্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সুযোগও পাবেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপভোক্তাদের তালিকা থাকবে জনসমক্ষে
নতুন ডিজিটাল পোর্টালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হবে উপভোক্তাদের নামের তালিকা প্রকাশ। এলাকার মানুষ সহজেই দেখতে পারবেন কারা এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। যদি কেউ মনে করেন যে কোনও অযোগ্য বা আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন, তাহলে সেই বিষয়ে সরাসরি পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জমা পড়া অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রশাসনের আশা।
নতুন পোর্টালের ইঙ্গিত
সম্প্রতি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প সফলভাবে এগোচ্ছে এবং উপভোক্তা বাছাই প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে এই পোর্টাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিপুল সংখ্যক আবেদন, চলছে যাচাই
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। আবেদনগুলি পর্যায়ক্রমে যাচাই করার পর প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে, কারণ সেগুলি নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেনি।
যাচাই শেষে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ যোগ্য মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে দ্বিতীয় কিস্তির ৩,০০০ টাকা পাঠানো হয়েছে।
যাঁদের টাকা এখনও আসেনি, তাঁদের কী করবেন?
অনেক আবেদনকারী এখনও আর্থিক সহায়তা পাননি। পাশাপাশি সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদনপত্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু আবেদন সফলভাবে জমা হয়েছে—এমন বার্তাই দেখা যাচ্ছে, ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্নভাবে স্ট্যাটাস দেখার দাবি করা হলেও, সরকারি তরফে জানানো হয়েছে যে এমন বহু তথ্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তাই শুধুমাত্র সরকারি ঘোষণার উপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আবেদন বাতিল মানেই সুযোগ শেষ নয়
সরকার জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক আবেদন একসঙ্গে যাচাই করতে সময় লাগছে। তাই যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা পৌঁছায়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে নথি যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পর ধাপে ধাপে অর্থ পাঠানো হবে। ফলে এখনও অর্থ না পেলেই আবেদন বাতিল হয়েছে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
প্রশাসনের বক্তব্য, সমস্ত আবেদন যাচাইয়ের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলবে। নতুন পাবলিক পোর্টাল চালু হলে উপভোক্তাদের তথ্য, অভিযোগ এবং যাচাই প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.