বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক অভিযুক্তের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পর বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া সামনে আসছে। এদিকে পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক তথা আরজি কর-কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য যা করেছে, তা যথাযথ বলেই তাঁর মনে হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তের মায়ের অবস্থানকেও তিনি সাহসী বলে উল্লেখ করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তকে দিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেই সময় অভিযুক্ত আচমকা এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। অভিযোগ, সে পুলিশের দিকেও গুলি চালায়। এরপর আত্মরক্ষার স্বার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে অভিযুক্ত গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর রত্না দেবনাথ বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, যদি সত্যিই অভিযুক্ত পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে থাকে, তাহলে আত্মরক্ষার জন্য পুলিশের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা গেলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রেও তা প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জানান, তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশের অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে আইন মেনেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলেই তাঁর দাবি।
এনকাউন্টারের পর আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। নিহত অভিযুক্তের মা ছেলের মরদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, তাঁর ছেলে যদি এমন গুরুতর অপরাধ করে থাকে, তবে সে তার প্রাপ্য শাস্তিই পেয়েছে। এই অবস্থানকে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী বলে উল্লেখ করে রত্না দেবনাথ বলেন, একজন মায়ের পক্ষে এমন মন্তব্য করা অত্যন্ত কঠিন। তাঁর মতে, নিজের সন্তানের অপরাধকে আড়াল না করে ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো সাহসিকতার পরিচয় বহন করে। তাই তিনি অভিযুক্তের মাকে একজন সাহসী ও প্রতিবাদী মা হিসেবে দেখছেন।
বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টার! পুলিশের গুলিতে মৃত্যু অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের
উল্লেখ্য, বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর পর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে পুরো এনকাউন্টার পর্বটি আইন অনুযায়ী তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই ঘটনার সমস্ত দিক আরও স্পষ্ট হবে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.
