আমেরিকার একাধিক অঙ্গরাজ্যে সম্প্রতি সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামে একটি পরজীবীঘটিত অন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই শত শত মানুষ এই সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন এবং অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ফলে খাদ্য ও পানীয়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কী এই সাইক্লোস্পোরিয়াসিস?
সাইক্লোস্পোরিয়াসিস হল Cyclospora cayetanensis নামের অণু-পরজীবীর কারণে হওয়া একটি অন্ত্রের সংক্রমণ। এই পরজীবী মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মূলত ক্ষুদ্রান্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় এবং হজমতন্ত্রে নানা জটিলতা তৈরি করে।

এই রোগ সাধারণত একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে সরাসরি ছড়ায় না। তবে পরজীবী দ্বারা দূষিত খাবার, জল বা মল-মূত্রের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কীভাবে ছড়াতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিকমতো পরিষ্কার না করা কাঁচা শাকসবজি, ফল এবং দূষিত পানীয় এই সংক্রমণের অন্যতম উৎস হতে পারে। বিশেষ করে যেসব খাবার রান্না ছাড়া খাওয়া হয়, সেগুলিতে ঝুঁকি বেশি থাকে।
যে ধরনের খাবার থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে—
*কাঁচা স্যালাড
*শসা, টম্যাটো, লেটুস
*ধনেপাতা ও বেসিলপাতা
*বেরি জাতীয় ফল
*দূষিত জল বা তরল খাবার
*অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা খাবার
কী কী লক্ষণ দেখা দেয়?
পরজীবী শরীরে প্রবেশের পর কয়েক দিনের মধ্যে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন—
* দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ডায়েরিয়া
*পেটে ব্যথা ও মুচড়ে যাওয়া
*বমি বা বমি বমি ভাব
*জ্বর
*মাথাব্যথা
*শরীর ও পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি
*দুর্বলতা ও পানিশূন্যতা
সংক্রমণ গুরুতর হলে শরীরের শক্তি দ্রুত কমে যেতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
সাইক্লোস্পোরিয়াসিস থেকে বাঁচতে খাদ্য পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
*ফল ও শাকসবজি খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
*শুধু জল নয়, প্রয়োজনে বেকিং সোডা বা ভিনিগার মিশ্রিত জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে ধোয়া যেতে পারে।
*বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করুন।
*রাস্তার খোলা শরবত, লস্যি বা অস্বাস্থ্যকর পানীয় এড়িয়ে চলুন।
*খাবার ভালোভাবে রান্না করে খান।
*রান্নার আগে ও খাবার তৈরির সময় হাত পরিষ্কার রাখুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি কয়েক দিনের বেশি ডায়েরিয়া চলতে থাকে, বারবার বমি হয়, জ্বর থাকে বা শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা হয়।
সচেতন খাদ্যাভ্যাস, নিরাপদ পানীয় জল এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এই ধরনের পরজীবীঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.