র্ষাকালে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণও দ্রুত ছড়ায়। এই সময় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকায় তারা ডায়েরিয়া, বমি, পেটব্যথা এবং অন্যান্য গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার মৌসুমে খাবারের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্ষায় রোটাভাইরাস, নোরোভাইরাস এবং হিউম্যান অ্যাডিনোভাইরাস-এফ-এর মতো ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। দূষিত জল, অপরিষ্কার খাবার এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
১. রাস্তার ধারের কাটা ফল ও শরবত

খোলা জায়গায় দীর্ঘক্ষণ রাখা কাটা ফল বা রঙিন শরবতে সহজেই জীবাণু জন্মাতে পারে। এগুলি থেকে পেটের সংক্রমণ, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ডায়েরিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বাজার থেকে ফল কিনে ভালোভাবে ধুয়ে তবেই শিশুকে খাওয়ানো উচিত। টিফিনে কাটা ফলের বদলে গোটা ফল দেওয়া নিরাপদ।
২. আধসেদ্ধ ডিম বা মাংস
বর্ষার সময়ে ডিম ও মাংসে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই আধসেদ্ধ নয়, সম্পূর্ণ সেদ্ধ বা ভালোভাবে রান্না করা খাবারই শিশুকে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত বা ফ্রোজেন প্রক্রিয়াজাত খাবারও এড়িয়ে চলাই ভালো।
৩. সামুদ্রিক মাছ
চিংড়ি, কাঁকড়া বা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রান্না না করা হয়, তাহলে তা সংক্রমণের কারণ হতে পারে। তাই এই মৌসুমে টাটকা মাছ বেছে নেওয়া এবং ভালোভাবে পরিষ্কার করে রান্না করা জরুরি।
৪. কাঁচা স্যালাড
পাতাযুক্ত সবজি বা কাঁচা স্যালাডে বর্ষাকালে জীবাণু ও পরজীবীর উপস্থিতি বেড়ে যেতে পারে। শুধু জল দিয়ে ধুলেই সব সময় তা দূর হয় না। তাই ভালোভাবে পরিষ্কার করে রান্না করা সবজি বা স্যুপ শিশুর জন্য বেশি নিরাপদ।
৫. প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
চিপস, কুকিজ, নাচোস, প্রসেসড মিট বা অতিরিক্ত সংরক্ষিত খাবার শিশুদের জন্য এই সময়ে উপযুক্ত নয়। এগুলির বদলে ওটস, ডালিয়া, ঘরে তৈরি চিঁড়ের পোলাও বা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দেওয়া ভালো।
৬. কার্বোনেটেড ঠান্ডা পানীয়
কোমল পানীয় বা কার্বোনেটেড ড্রিঙ্কে অতিরিক্ত চিনি ও বিভিন্ন সংযোজক উপাদান থাকে, যা হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। বর্ষায় শিশুদের এসব পানীয়ের বদলে নিরাপদ পানি, ডাবের পানি বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পানীয় দেওয়া উচিত।
৭. দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার
এক দিনের বেশি সময় ধরে ফ্রিজে রাখা ভাত, ডাল, তরকারি, পাউরুটি বা কেক শিশুদের না খাওয়ানোই ভালো। ফ্রিজ থেকে বের করার পর খাবারে দ্রুত জীবাণু বৃদ্ধি পেতে পারে, যা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
শিশুকে সুস্থ রাখতে কী করবেন?
বর্ষাকালে সব সময় টাটকা ও ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়ান। বিশুদ্ধ পানি পান করান, খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং ফল-সবজি ভালোভাবে পরিষ্কার করে ব্যবহার করুন। শিশুর ডায়েরিয়া, বারবার বমি, জ্বর বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ সময় সচেতন খাদ্যাভ্যাসই শিশুদের পেটের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.