বারুইপুর কাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ, ‘দাদা কথা রেখেছেন’ বললেন নির্যাতিতার বাবা

বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। এই মামলায় পুলিশের দ্রুত তদন্ত, একাধিক গ্রেপ্তার এবং প্রধান অভিযুক্তদের একজনের পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে নির্যাতিতার পরিবারের প্রতিক্রিয়া। নিহত কিশোরীর বাবা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় তিনি মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশের ভূমিকার উপর আস্থা রাখছেন। তাঁর বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত তাঁর মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

ঘটনার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মামলার তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়। পাশাপাশি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিচার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

তদন্তের অগ্রগতিতে প্রথমে তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এলাকা থেকে আরও একজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এর ফলে এই মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে জীবিত তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের একজন প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের এনকাউন্টারে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় সে নাকি এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার সত্যতা ও পরিস্থিতি নিয়েও তদন্ত চলবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

Baruipur Encounter: ‘ও সব করতে পারে’! এনকাউন্টারের পর বিস্ফোরক দাবি অভিযুক্তের স্ত্রীর

এনকাউন্টারের পর নির্যাতিতার বাবা বলেন, প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসে তাঁর আস্থা রয়েছে। তাঁর কথায়, অভিযুক্তদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল এবং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার চেষ্টা হয়েছে বলেই তিনি মনে করছেন। পুলিশও দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর আশা, আদালতের মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হবে।

অন্যদিকে, প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও সামনে এসেছে। তার স্ত্রী দাবি করেন, প্রভাস দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক আচরণের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং পরিবারের কারও কথা শুনত না। তাঁর বক্তব্য, একটি নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে এমন নৃশংস অপরাধের জন্য যে শাস্তি হয়েছে, তা প্রাপ্য। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রভাসের মাও।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, এত ভয়াবহ অপরাধের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ছিল, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করার আগে অপরাধীরা ভয় পায়। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। পুলিশ বাকি অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি আদালতে দ্রুত চার্জশিট পেশ করে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, নারী ও শিশু নিরাপত্তা এবং দ্রুত বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং আদালতের রায় এখন এই বহুল আলোচিত মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক