ত্বকে সুগন্ধি ব্যবহার অনেকেরই নিত্যদিনের অভ্যাস। দীর্ঘ সময় সুগন্ধ ধরে রাখার আশায় অনেকে সরাসরি ঘাড়, গলা বা কবজির ত্বকে পারফিউম স্প্রে করেন। কিন্তু এই অভ্যাস সব সময় নিরাপদ নয়। বিশেষ করে বেশি অ্যালকোহলযুক্ত সুগন্ধি বারবার ব্যবহার করলে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অ্যালার্জি, জ্বালাপোড়া, র্যাশ এমনকি ঘাড় বা গলার ত্বকে কালচে ছোপও পড়তে পারে।
কেন কালচে দাগ হতে পারে?
সুগন্ধিতে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এর ফলে ‘কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস’ নামে পরিচিত ত্বকের প্রদাহ দেখা দেয়। এতে আক্রান্ত স্থানে লালচে র্যাশ, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।

এ ছাড়া অ্যালকোহলসমৃদ্ধ পারফিউম লাগিয়ে দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে অতিবেগনি রশ্মির সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া হতে পারে। এর ফলে ত্বকের মেলানিন উৎপাদনে পরিবর্তন ঘটে এবং ধীরে ধীরে ঘাড় বা গলার অংশে কালচে দাগ তৈরি হতে পারে। ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্যও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কীভাবে যত্ন নেবেন?
ত্বকে কালচে ছোপ বা হালকা র্যাশ দেখা দিলে কিছু ঘরোয়া পরিচর্যা উপকারী হতে পারে।
১. শসা, লেবু ও গোলাপজলের প্যাক
এক টেবিল চামচ শসার রস, এক টেবিল চামচ লেবুর রস এবং এক টেবিল চামচ গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। তুলোর সাহায্যে দাগযুক্ত স্থানে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শসা ত্বককে শীতল রাখে, লেবুর ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে এবং গোলাপজল ত্বককে সতেজ রাখে।
২. নিমের ব্যবহার
স্নানের জলে কয়েকটি নিমপাতা ভিজিয়ে রাখতে পারেন। আবার নিমপাতা সেদ্ধ করা ঠান্ডা জল তুলোয় ভিজিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগানোও যেতে পারে। চাইলে এক চামচ নিমগুঁড়োর সঙ্গে প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ১৫ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। নিমের প্রদাহনাশক ও জীবাণুরোধী গুণ ত্বককে আরাম দিতে সাহায্য করে।
৩. আলু ও লেবুর রস
একটি আলুর রস বের করে তার সঙ্গে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। তুলোর সাহায্যে কালচে দাগের উপর লাগিয়ে প্রায় ২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের দাগ হালকা হতে সাহায্য করতে পারে।
ভবিষ্যতে কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
*সরাসরি ত্বকের উপর পারফিউম স্প্রে না করে পোশাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
*সংবেদনশীল ত্বক হলে নতুন সুগন্ধি ব্যবহারের আগে ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন।
*পারফিউম লাগিয়ে দীর্ঘ সময় রোদে থাকার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
*বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং ত্বক পরিষ্কার রাখুন।
তবে যদি কালচে দাগ দ্রুত বাড়তে থাকে, তীব্র চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা দেখা দেয়, অথবা দাগ দীর্ঘদিন না কমে, তাহলে ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর না করে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সব ধরনের কালচে দাগ কেবল সুগন্ধির কারণে হয় না; কখনও কখনও অন্য শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.