ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সফল ব্যাটার এবং প্রাক্তন অধিনায়ক Sunil Gavaskar। বহু বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও খেলাটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আজও অটুট। ক্রিকেটবিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হিসেবে আইপিএল থেকে ভারতের আন্তর্জাতিক ম্যাচ— সর্বত্রই তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ে। বয়স ৭৭ পেরোলেও কর্মব্যস্ত জীবনে ক্লান্তির ছাপ নেই। নিয়মিত দেশ-বিদেশ সফর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কমেন্ট্রি এবং নিরন্তর কাজের মধ্যেও কী ভাবে নিজেকে এতটা ফিট রেখেছেন তিনি, তা নিয়ে কৌতূহল কম নয়।
গাওস্কর নিজেই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সুস্থ ও সক্রিয় থাকার মূলমন্ত্র হল শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। পরিমিত খাবার, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকাকেই তিনি দীর্ঘ দিনের সুস্থতার অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করেন।
তাঁর দৈনন্দিন রুটিনে বিশেষ গুরুত্ব পায় যোগাসন এবং প্রাণায়াম। নিয়মিত যোগাভ্যাসের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পর্যাপ্ত স্ট্রেচিং হয় বলে আলাদা করে কার্ডিয়ো বা ভারী শরীরচর্চার প্রয়োজন খুব একটা পড়ে না। পাশাপাশি, প্রাণায়াম মনঃসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখে।
গাওস্করের সকালের ব্যায়ামের তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে সূর্য নমস্কার। প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তিনি নিয়মিত এই যোগাভ্যাস করেন। সূর্য নমস্কারের ১২টি ভঙ্গি শরীরের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, পেশির নমনীয়তা বাড়ায় এবং হৃদ্যন্ত্রকে সুস্থ রাখে। বয়স বাড়লেও শরীরকে সচল এবং কর্মক্ষম রাখতে এই যোগাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূর্য নমস্কারের পর তিনি সিদ্ধাসন করেন। এই আসন মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। সিদ্ধাসন করতে ম্যাটের উপর সুখাসনে বসে দুই হাত হাঁটুর উপর জ্ঞানমুদ্রায় রাখতে হয় এবং ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর বলে মনে করা হয়।
দীর্ঘ সময় কমেন্ট্রি বক্সে বসে থাকার কারণে পিঠ ও কোমরে যে চাপ তৈরি হয়, তা দূর করতে গাওস্কর ভুজঙ্গাসনও করেন। এই আসনে উপুড় হয়ে শুয়ে হাত ও কনুইয়ের সাহায্যে শরীরের উপরের অংশ সামান্য উপরে তুলতে হয়। এর ফলে পিঠ, কোমর এবং মেরুদণ্ডের ভালো স্ট্রেচিং হয়, যা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্যও উপকারী।
শুধু যোগাসন নয়, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং ক্লান্তি দূর করতে নিয়মিত প্রাণায়ামও করেন তিনি। বিশেষ করে নাড়ি শোধন প্রাণায়াম তাঁর দৈনন্দিন রুটিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পিঠ সোজা রেখে বসে নির্দিষ্ট নিয়মে এক নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং অন্য নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস ছাড়ার এই প্রক্রিয়া শরীরে অক্সিজেনের সঞ্চালন বাড়ায়। পাশাপাশি মনকে শান্ত রাখতে এবং একাগ্রতা বাড়াতেও এই প্রাণায়াম কার্যকর।
সাতাত্তর বছর বয়সেও গাওস্করের প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং কর্মোদ্যম প্রমাণ করে যে, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য শুধু শরীরচর্চাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, মানসিক স্থিতি এবং নিয়মিত যোগ ও প্রাণায়ামের চর্চা। বয়স যতই বাড়ুক, শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনই যে সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি, তার অন্যতম উদাহরণ সুনীল গাওস্কর।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.