রথযাত্রা এলেই ভক্তদের মনে বিশেষ উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এই উৎসব শুধু রথ টানা বা মেলার আনন্দেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জগন্নাথদেবের ভোগের নানা সুস্বাদু পদও এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। পুরীর মন্দিরে ৫৬ ভোগের ঐতিহ্য বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। সেই ভোগের অনুপ্রেরণায় তৈরি বিভিন্ন মিষ্টি আজও রথযাত্রার সময় ঘরে ঘরে জনপ্রিয়।
আপনি চাইলে খুব সহজ উপকরণ ব্যবহার করেই বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন এমন তিনটি জনপ্রিয় মিষ্টি। রইল ধাপে ধাপে প্রস্তুত প্রণালী।
১. মুচমুচে জিলিপি

রথের মেলা আর গরম জিলিপি—এই জুটি যেন অবিচ্ছেদ্য। বাইরে থেকে খাস্তা আর ভেতরে রসে ভরা জিলিপি তৈরি করতে প্রথমে ময়দা ও টক দই মিশিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। সেটি কয়েক ঘণ্টা বা সারারাত ঢেকে রেখে দিন যাতে হালকা ফারমেন্টেশন হয়।
পরের দিন ব্যাটারে সামান্য বেকিং সোডা ও ঘি মিশিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। আলাদা করে চিনি, জল ও এলাচ দিয়ে হালকা ঘন রস তৈরি করুন। এরপর গরম তেলে গোল পাক দিয়ে জিলিপি ভেজে সঙ্গে সঙ্গে চিনির রসে কয়েক মিনিট ডুবিয়ে রাখলেই তৈরি হয়ে যাবে মুচমুচে জিলিপি।
২. খাস্তা গজা
রথযাত্রার ভোগে গজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই মিষ্টি বানাতে ময়দার সঙ্গে ঘি ও বেকিং পাউডার ভালোভাবে মিশিয়ে শক্ত করে ময়দা মাখুন। এরপর ছোট ছোট চৌকো টুকরো কেটে নিন।
কম আঁচে ধীরে ধীরে গজাগুলো ভাজলে বাইরের স্তর খাস্তা এবং ভেতরটাও সমানভাবে সেদ্ধ হয়। অন্যদিকে চিনি ও জল দিয়ে ঘন রস তৈরি করে ভাজা গজাগুলো কিছুক্ষণ সেই রসে রেখে দিন। রস শুষে নিলেই পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত খাস্তা গজা।
৩. ছানার মালপোয়া
মালপোয়ার নরম ও রসালো স্বাদ রথযাত্রার বিশেষ আকর্ষণ। প্রথমে নরম ছানা ভালোভাবে মেখে তার সঙ্গে ময়দা, সুজি, সামান্য মৌরি ও দুধ মিশিয়ে মসৃণ ব্যাটার তৈরি করুন। আধ ঘণ্টা রেখে দেওয়ার পর ব্যাটার থেকে ছোট ছোট মালপোয়া গরম তেল ও ঘির মিশ্রণে ভেজে নিন।
আগে থেকে তৈরি করা হালকা চিনির রসে ভাজা মালপোয়াগুলো কয়েক মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতে মিষ্টি রস ভেতর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে এবং মালপোয়া হবে নরম, সুস্বাদু ও রসালো।
রান্নার কয়েকটি জরুরি টিপস
*জিলিপির ব্যাটার আগে থেকে রেখে দিলে স্বাদ ও টেক্সচার আরও ভালো হয়।
*গজা সবসময় কম আঁচে ভাজলে খাস্তা হয়।
*মালপোয়ার ব্যাটার বিশ্রাম দিলে মিশ্রণ আরও মসৃণ হয়।
*চিনির রস অতিরিক্ত ঘন বা খুব পাতলা না রাখাই ভালো, তাহলে মিষ্টিগুলো ঠিকভাবে রস শুষে নিতে পারে।
রথযাত্রার দিনে পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের জন্য এই তিনটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ঘরেই তৈরি করে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারেন। এগুলো শুধু ভোগ হিসেবেই নয়, বিকেলের জলখাবার বা উৎসবের আপ্যায়নেও সমান জনপ্রিয়।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.