গরমের দিনে এক কাপ ঠান্ডা কফি যেন অনেকের কাছেই স্বস্তির অন্য নাম। তবে ওজন কমানোর চেষ্টা করলে কফি খাওয়া নিয়ে অনেকেই দোটানায় ভোগেন। বিশেষ করে চিনি, ক্রিম বা ফুল-ফ্যাট দুধ মেশানো কফি শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করতে পারে। কিন্তু তাই বলে কি কফিপ্রেম পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে? পুষ্টিবিদদের মতে, একটু বুদ্ধি খাটালেই মিলতে পারে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর সমাধান।
সাধারণ জলের বদলে ডাবের জল ব্যবহার করে তৈরি করা যেতে পারে এক বিশেষ ধরনের কোল্ড কফি। এই পানীয় যেমন স্বাদে আলাদা, তেমনই শরীরের জন্যও উপকারী। ডাবের জল শরীরকে আর্দ্র রাখে, গরমে ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে এবং প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের জোগান দেয়। অন্যদিকে কফি মেটায় ক্যাফিনের চাহিদা, ফলে অকারণ খিদে বা বারবার কিছু খাওয়ার ইচ্ছাও কমে।
কীভাবে বানাবেন এই কোল্ড কফি?

প্রথমে একটি গ্লাসে অর্ধেক কাপ ডাবের জল নিন। তাতে মিশিয়ে দিন পছন্দমতো কফি গুঁড়ো। চিনি এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। মিষ্টি স্বাদ চাইলে সামান্য মধু, গুড় অথবা স্টিভিয়া ব্যবহার করা যেতে পারে। স্টিভিয়া একটি প্রাকৃতিক সুগার বিকল্প, যাতে ক্যালোরি প্রায় নেই বললেই চলে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও এটি ব্যবহার করতে পারেন।
এরপর ‘মিল্ক ফ্রদার’ বা অন্য কোনও ব্লেন্ডারের সাহায্যে কফির মিশ্রণটি ফেটিয়ে নিন। এতে উপরে হালকা ফেনার স্তর তৈরি হবে। তারপর কয়েকটি বরফের টুকরো যোগ করে গ্লাসের বাকি অংশ ডাবের জল দিয়ে ভরে দিন।
যাঁরা দুধ-কফি পছন্দ করেন, তাঁরা চাইলে অল্প ডাবের জল ব্যবহার করে বাকিটা লো-ফ্যাট বা ডবল-টোনড দুধ দিয়ে পূরণ করতে পারেন। এতে স্বাদ আরও মোলায়েম হবে, আবার অতিরিক্ত ক্যালোরিও যোগ হবে না।
কেন এই পানীয় উপকারী?
এই বিশেষ কোল্ড কফি শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে। ডাবের জল শরীর ঠান্ডা রাখে এবং গরমে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি কফির ক্যাফিন ক্লান্তি কাটিয়ে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই অনেকেই খালি পেটে কফি পান করেন, যা অনেক সময় শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে। কিন্তু ডাবের জল মেশানো কফি সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে সক্ষম। বরং এটি শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ডায়েট মেনে চলেও তাই কফির স্বাদ উপভোগ করা সম্ভব। একটু ভিন্ন উপায়ে তৈরি এই কোল্ড কফি গরমের দিনে হয়ে উঠতে পারে স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু সঙ্গী।