হঠাৎ জ্বর, হাত-মুখে ঘা? হাম বা পক্স নয়, শিশুদের এই ভাইরাল রোগ চিনবেন কীভাবে

বর্ষা কিংবা ঋতু পরিবর্তনের সময়ে শিশুদের মধ্যে এক ধরনের ভাইরাল সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, যার নাম হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (HFMD)। অনেক সময় এই রোগের শুরুতেই তীব্র জ্বরের সঙ্গে হাত, পা ও মুখে ফুসকুড়ি বা ঘা দেখা দেওয়ায় অভিভাবকেরা একে হাম বা চিকেন পক্স বলে ভুল করেন। কিন্তু এই রোগের লক্ষণ, সংক্রমণের ধরন এবং পরিচর্যা আলাদা।

কী এই হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ?

এটি একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত অসুখ। শিশুদের যে কোনও বয়সে হতে পারে, তবে সাধারণত ২ থেকে ৮ বছর বয়সিদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে অন্য শিশুর শরীরেও সহজেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বর্তমানে এই রোগ প্রতিরোধের জন্য কোনও নির্দিষ্ট টিকা নেই।

হঠাৎ জ্বর, হাত-মুখে ঘা? হাম বা পক্স নয়, শিশুদের এই ভাইরাল রোগ চিনবেন কীভাবে
হঠাৎ জ্বর, হাত-মুখে ঘা? হাম বা পক্স নয়, শিশুদের এই ভাইরাল রোগ চিনবেন কীভাবে

কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

রোগের শুরুতে সাধারণত হঠাৎ জ্বর আসে। এরপর হাতের তালু, পায়ের পাতা, হাঁটুর আশপাশ এবং মুখের ভিতরে ছোট-বড় ফুসকুড়ি বা ফোস্কার মতো ঘা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এগুলির সঙ্গে লালচে র‌্যাশও থাকে।

এ ছাড়াও দেখা দিতে পারে—
*গলা ব্যথা ও খাবার গিলতে অসুবিধা
*জিভ, মাড়ি ও গালের ভিতরে ছোট ছোট ঘা
*খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাওয়া
*শরীরে ব্যথা ও দুর্বলতা
*ফোস্কার জায়গায় জ্বালা বা যন্ত্রণা

সাধারণত উপসর্গ শুরু হওয়ার পর সম্পূর্ণ সুস্থ হতে প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে।

চিকিৎসা কী?

এই রোগের জন্য নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। চিকিৎসকেরা মূলত উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করেন। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল দেওয়া হতে পারে। মুখের ঘা থেকে অস্বস্তি কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ মাউথওয়াশ বা ব্যথা উপশমকারী জেল ব্যবহার করা হয়।
নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা উচিত নয়, কারণ এটি ভাইরাসজনিত রোগ। প্রয়োজন না থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক কোনও উপকার করে না, বরং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কীভাবে যত্ন নেবেন?

শিশুর হাতে, পায়ে বা মুখে ঘা বা র‌্যাশের সঙ্গে জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ফোস্কার উপর নিজে থেকে কোনও অ্যান্টিসেপটিক মলম লাগানো ঠিক নয়।
রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় শিশুকে অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন স্কুল বা ডে-কেয়ারে না পাঠানোই ভালো। অন্য শিশুদের থেকে কিছুটা আলাদা রাখা উচিত এবং তার ব্যবহৃত তোয়ালে, বাসন, পানির বোতল ও অন্যান্য সামগ্রী আলাদা ব্যবহার করা প্রয়োজন।

কী খাবার দেওয়া উচিত?

মুখে ঘা থাকায় শক্ত খাবার খেতে শিশুর কষ্ট হতে পারে। তাই সহজপাচ্য ও নরম খাবার দেওয়া ভালো। যেমন—
*ঠান্ডা দুধ
*পাতলা খিচুড়ি
*সুজি
*ডাবের জল
*ফলের রস
*পর্যাপ্ত তরল খাবার

এতে শরীরে পানির ঘাটতি কমে এবং শিশুর অস্বস্তিও কিছুটা হ্রাস পায়।

কখন বেশি সতর্ক হবেন?

যদি শিশুর জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়, খাওয়াদাওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যায়, পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেয়, শ্বাসকষ্ট হয় বা শিশুকে অত্যন্ত দুর্বল মনে হয়, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে বা শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

সচেতনতা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে অধিকাংশ শিশুই এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক