বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়া, মাথার ত্বকে চুলকানি, অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব এবং সংক্রমণের সমস্যা অনেকেরই বাড়ে। তাই এই সময়ে চুলের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। আগে যেখানে অধিকাংশ মানুষ নারকেল তেলের উপর নির্ভর করতেন, এখন প্রসাধনীর বাজারে অলিভ অয়েল, আর্গান অয়েল, বাদাম তেল, জবা তেল কিংবা জোজোবা তেলের পাশাপাশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে বায়োটিন তেল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে বা অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।
বায়োটিন তেল কী?

বায়োটিন মূলত ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যাকে অনেক সময় ভিটামিন এইচও বলা হয়। এই ভিটামিন চুল, ত্বক এবং নখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। বায়োটিন-সমৃদ্ধ তেল সাধারণত এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে মাথার ত্বক পুষ্টি পায় এবং চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সহায়তা করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁদের শরীরে বায়োটিনের ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পুষ্টি পূরণ হলে চুলের গুণগত মানের উন্নতি হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রেই একই রকম ফল মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
চুলের জন্য কীভাবে উপকারী হতে পারে?
চুলের প্রধান গঠনমূলক উপাদান হল কেরাটিন নামের একটি প্রোটিন। কেরাটিন উৎপাদনে সমস্যা হলে চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে, সহজে ভেঙে যায় এবং ঘনত্বও কমতে থাকে। বায়োটিন এই প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
সম্ভাব্য উপকারিতাগুলি হল—
*চুলের গোড়া শক্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে।
*চুল ভাঙা ও ডগা ফাটার প্রবণতা কিছুটা কমাতে পারে।
*পাতলা চুলকে তুলনামূলক ঘন দেখাতে সহায়ক হতে পারে।
*মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
বর্ষাকালে কেন এটি বেশি জনপ্রিয়?
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মাথার ত্বকে ঘাম, তেল ও ময়লা জমে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে চুল ঝরার প্রবণতাও বেড়ে যায়। এই সময়ে পুষ্টিকর হেয়ার অয়েল ব্যবহার করলে মাথার ত্বকের যত্ন নেওয়া সহজ হতে পারে। তবে তেল লাগানোর পর দীর্ঘক্ষণ রেখে দেওয়া উচিত নয়, বিশেষ করে যাঁদের মাথার ত্বক খুব তৈলাক্ত।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
১. মাথার ত্বকে মালিশ করুন
স্নানের ৩০-৬০ মিনিট আগে অল্প পরিমাণ বায়োটিন তেল নিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে গোলাকারে ম্যাসাজ করুন।
২. অন্য তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করুন
নারকেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করলে চুল নরম ও পরিচর্যা করা সহজ হতে পারে।
৩. কন্ডিশনারে কয়েক ফোঁটা মেশাতে পারেন
কন্ডিশনারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ বায়োটিন তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুলের শুষ্কভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।
কারা ব্যবহার করতে পারেন?
*যাঁদের চুল অতিরিক্ত পড়ছে।
*যাঁদের চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে।
*ভঙ্গুর বা ডগা ফাটা চুলের সমস্যায় ভুগছেন।
*রাসায়নিক ট্রিটমেন্টের কারণে চুল দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ব্যবহারের আগে কী মাথায় রাখবেন?
যদি মাথার ত্বকে ফাঙ্গাল সংক্রমণ, খুশকি, ক্ষত বা অ্যালার্জির সমস্যা থাকে, তাহলে নতুন কোনও তেল ব্যবহার করার আগে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। পাশাপাশি, শুধুমাত্র তেল ব্যবহার করলেই চুলের সব সমস্যা দূর হবে না। সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ঘুম এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিও চুল সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.