সনাতন ধর্মে গৃহের মন্দির বা পুজোর স্থানকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। তাই সেখানে দেব-দেবীর মূর্তি বা ছবি স্থাপনের ক্ষেত্রেও কিছু প্রচলিত নিয়ম ও রীতিনীতি অনুসরণ করা হয়। বহু মানুষের বাড়িতেই একই দেবতার একাধিক মূর্তি বা ছবি দেখা যায়। তবে বাস্তুশাস্ত্র এবং কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, একই পুজোর ঘরে একই দেবতার একাধিক মূর্তি রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত বলে মনে করা হয়।
উল্লেখ্য, এগুলি মূলত প্রচলিত ধর্মীয় ও বাস্তুমতের বিশ্বাস। এগুলির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
শক্তির ভারসাম্য নিয়ে প্রচলিত ধারণা

বাস্তুশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়, প্রতিটি দেবমূর্তি এক ধরনের ইতিবাচক শক্তির প্রতীক। একই দেবতার একাধিক মূর্তি খুব কাছাকাছি বা মুখোমুখি রাখা হলে সেই শক্তির ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। এর ফলে পুজোর স্থানে কাঙ্ক্ষিত শান্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়।
একাগ্রতায় প্রভাব পড়তে পারে
পুজো বা ধ্যানের অন্যতম উদ্দেশ্য হল মনকে স্থির রাখা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, একই দেবতার একাধিক রূপ বা মূর্তি সামনে থাকলে অনেকের মন বিভ্রান্ত হতে পারে। ফলে প্রার্থনার সময় একাগ্রতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
পারিবারিক সম্পর্কে টানাপড়েনের আশঙ্কা
বাস্তুমতে আরও একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, একই দেবতার একাধিক মূর্তি সঠিকভাবে না রাখলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, মতভেদ বা অশান্তির পরিবেশ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গণেশ, লক্ষ্মী বা রাধাকৃষ্ণের একাধিক মূর্তি রাখার ক্ষেত্রে এই সতর্কতার কথা বলা হয়।
আর্থিক উন্নতি নিয়ে কী বিশ্বাস রয়েছে?
অনেকের বিশ্বাস, ধনদেবী লক্ষ্মী বা বিঘ্নহর্তা গণেশের একাধিক মূর্তি নিয়ম না মেনে পাশাপাশি রাখা হলে আর্থিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চয়ে সমস্যা বা ব্যবসায় মন্দার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে এই বিশ্বাসকে যুক্ত করা হয়। যদিও এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
যদি ইতিমধ্যেই একাধিক মূর্তি থাকে, কী করবেন?
ধর্মীয় রীতি ও বাস্তুমত অনুসারে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা যেতে পারে—
*একই দেবতার দুটি মূর্তি যেন একে অপরের মুখোমুখি না থাকে এবং খুব কাছাকাছি না রাখা হয়।
*যদি একাধিক গণেশ মূর্তি রাখতেই হয়, তবে সেগুলি আলাদা স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক বাস্তুশাস্ত্রবিদ একসঙ্গে তিনটি গণেশ মূর্তি না রাখার কথাও বলেন।
*ঘরের মন্দিরে ছোট আকারের মূর্তি রাখা অধিক উপযোগী বলে মনে করা হয়। বড় মূর্তি প্রতিষ্ঠা করলে নিয়মিত পূজার বিশেষ বিধি পালন করার প্রয়োজন হতে পারে।
*ভাঙা বা ফাটল ধরা মূর্তি দীর্ঘদিন পুজোর ঘরে না রেখে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী যথাযথভাবে বিসর্জন বা অপসারণ করার প্রচলন রয়েছে।
*অতিরিক্ত মূর্তি থাকলে সসম্মানে কোনও মন্দিরে দান করা বা উপযুক্ত ধর্মীয় স্থানে রেখে আসার রীতিও অনেকেই অনুসরণ করেন।
শেষকথা
ঘরের মন্দির পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিসমুক্ত রাখা অধিকাংশ ধর্মীয় মতেই গুরুত্ব পায়। একই দেবতার একাধিক মূর্তি রাখা নিয়ে যে সতর্কতার কথা বলা হয়, তা মূলত বাস্তুশাস্ত্র ও প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। এগুলি ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের ধর্মীয় মত, পারিবারিক রীতি এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ পুরোহিতের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.