Vastu: বাস্তুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়িতে ভগবান হনুমানের ছবি বা মূর্তি রাখা অত্যন্ত শুভ। বজরংবলীর উপস্থিতি ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর করে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। তবে হনুমানজির ছবি রাখার ক্ষেত্রেও কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
হনুমানজির ছবি কোন দিকে রাখবেন?
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, হনুমানজির মূর্তি বা ছবি দক্ষিণ দিকে রাখা শুভ বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে দক্ষিণমুখী বাড়িতে লাল হনুমানজির ছবি বা প্রতিমা রাখলে দক্ষিণ দিক থেকে আসা অশুভ ও নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কমে বলে বিশ্বাস করা হয়।
কোন ধরনের হনুমানজির ছবি রাখবেন?
বাস্তুশাস্ত্রে হনুমানজির বিভিন্ন রূপের ছবির আলাদা তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করা হয়। যেমন—
১. রামের নাম জপ করছেন হনুমানজি
ভগবান রামের নাম জপ করছেন—এমন হনুমানজির ছবি বাড়িতে রাখাকে শুভ মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই ধরনের ছবি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে সাহায্য করে। বাড়িতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেও এটি সহায়ক বলে মনে করা হয়।
২. হাতে পর্বত নিয়ে হনুমানজি
হাতে পর্বত তুলে থাকা হনুমানজির ছবি শক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। বাড়িতে এই ছবি রাখলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্যম ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয় বলে বাস্তুশাস্ত্রের বিশ্বাস।
৩. আকাশে উড়ন্ত হনুমানজি
আকাশে উড়ছেন এমন হনুমানজির ছবি অগ্রগতি ও সাফল্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বাস করা হয়, এই ধরনের ছবি জীবনে নতুন সুযোগের পথ খুলে দিতে পারে এবং কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
৪. পঞ্চমুখী হনুমানজি
বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারে পঞ্চমুখী হনুমানজির ছবি বা মূর্তি রাখাকে বিশেষভাবে শুভ মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি বাড়ির ভিতরে নেতিবাচক ও অশুভ শক্তির প্রবেশ রোধ করতে সাহায্য করে।
পঞ্চমুখী হনুমানের পাঁচ মুখের তাৎপর্য কী?
পঞ্চমুখী হনুমানকে হনুমানজির একটি বিশেষ ও মহাজাগতিক রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রচলিত ধারায় তাঁর পাঁচটি মুখের মধ্যে হনুমান, নরসিংহ, গরুড়, বরাহ এবং হয়গ্রীবের রূপের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে নরসিংহ, বরাহ ও হয়গ্রীবকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে মানা হয়।
তাই বাড়িতে হনুমানজির ছবি রাখার ক্ষেত্রে শুধু ছবি নির্বাচন নয়, কোন রূপের ছবি এবং বাড়ির কোন স্থানে তা রাখা হচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলে বাস্তুশাস্ত্র।
তবে এগুলি বাস্তুশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ; এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এগুলিকে বিশ্বাস ও সংস্কৃতির দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা উচিত।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.