চোখের তলায় ‘অমাবস্যা’? কার্বক্সি থেরাপিতে মিলতে পারে ডার্ক সার্কেল থেকে মুক্তি

চোখের নিচের কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল এখন শুধু রাত জাগার সমস্যা নয়। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে কাজ, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, পুষ্টির ঘাটতি এবং বংশগত কারণ— সব মিলিয়েই অনেকের চোখের তলায় কালচে ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাজারে নানা ধরনের আন্ডার-আই ক্রিম বা ঘরোয়া টোটকা থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে কার্বক্সি থেরাপি (Carboxy Therapy) ডার্ক সার্কেল কমানোর একটি জনপ্রিয় কসমেটিক চিকিৎসা হিসেবে উঠে এসেছে।

কার্বক্সি থেরাপি কী?

কার্বক্সি থেরাপিতে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল-গ্রেড কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাস খুব সূক্ষ্ম সূঁচের মাধ্যমে ত্বকের নিচে প্রবেশ করানো হয়।
এই গ্যাস প্রয়োগের ফলে ওই অংশে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি শরীর ওই জায়গায় বেশি অক্সিজেন পৌঁছে দিতে কাজ শুরু করে। এর ফলে কোলাজেন উৎপাদনও বাড়তে পারে, যা ত্বককে আরও মসৃণ, দৃঢ় এবং স্বাস্থ্যকর করে তুলতে সাহায্য করে।

ডার্ক সার্কেল কমাতে কীভাবে কাজ করে?

অনেকের চোখের নিচের ত্বক খুব পাতলা হওয়ায় ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো নীলচে বা বেগুনি রঙের দেখায়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পিগমেন্টেশনও কালো দাগের কারণ হয়।

কার্বক্সি থেরাপির সম্ভাব্য উপকারিতা হলো—
*চোখের নিচে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।
*কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে।
*ত্বকের ঘনত্ব বাড়িয়ে পাতলা ত্বককে কিছুটা পুরু করে।
*পিগমেন্টেশন ও কালচে ভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে।
*ত্বককে তুলনামূলক টানটান ও সতেজ দেখাতে সাহায্য করে।

কতগুলি সেশন প্রয়োজন?

ডার্ক সার্কেলের ধরন ও গভীরতার উপর নির্ভর করে সাধারণত ৪ থেকে ৮টি সেশন প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে চিকিৎসার পরিকল্পনা আলাদা হতে পারে, তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সেশন নির্ধারণ করা উচিত।

খরচ কত?

ভারতে একটি কার্বক্সি থেরাপি সেশনের খরচ সাধারণত প্রায় ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ক্লিনিক, চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় সেশনের সংখ্যার উপর মোট খরচ নির্ভর করে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করলে এই থেরাপি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে চিকিৎসার পর কিছু সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন—

*হালকা লালচে ভাব
*সামান্য ফোলাভাব
*অল্প চুলকানি বা অস্বস্তিএসব লক্ষণ সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যেই কমে যায়।

কারা এই থেরাপি করাবেন না?

নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কার্বক্সি থেরাপি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়—
*গর্ভবতী মহিলা
*অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
*গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী

চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞ বা কসমেটিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শুধু থেরাপিই কি সমাধান?

কার্বক্সি থেরাপি ডার্ক সার্কেল কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী ফল পেতে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
*প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমান।
*পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
*পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
*দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে কাজ করলে নিয়মিত চোখকে বিশ্রাম দিন।

প্রয়োজন হলে সানস্ক্রিন ও আন্ডার-আই কেয়ারের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

ঘুমের সমস্যা বা খিটখিটে মেজাজই নয়, রজোনিবৃত্তির সময়ে দেখা দিতে পারে এই অজানা উপসর্গগুলিও

উপসংহার
ডার্ক সার্কেলের সমস্যা অনেক কারণেই হতে পারে। তাই শুধু প্রসাধনী নয়, কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কার্বক্সি থেরাপি অনেকের ক্ষেত্রে ভালো ফল দিতে পারে, তবে এটি করানোর আগে অবশ্যই একজন যোগ্য ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক স্কিন কেয়ার বজায় রাখলে চোখের নিচের ত্বক দীর্ঘদিন সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক