Vastu: জীবনে একের পর এক বাধা, অশান্তি কিংবা কাজে সাফল্য না আসা—এমন পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকেই শনির সাড়ে সাতি বা ধাইয়ার প্রভাবকে যুক্ত করেন। জ্যোতিষশাস্ত্রে শনি কর্মফলদাতা হিসেবে পরিচিত। বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষের কর্মের ভিত্তিতেই শনি শুভ-অশুভ ফল প্রদান করেন। তবে জ্যোতিষের পাশাপাশি বাস্তুশাস্ত্রের কিছু নিয়ম মেনে চললে ঘরের পরিবেশ ইতিবাচক রাখা সম্ভব বলে মনে করা হয়।
শনির অশুভ প্রভাব কমাতে বাস্তু অনুযায়ী কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখবেন? রইল কয়েকটি প্রচলিত নিয়ম।
বাড়ির পশ্চিম ও নৈঋত কোণ পরিষ্কার রাখুন
বাস্তু মতে, বাড়ির পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বা নৈঋত দিক শনির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এই অংশে অপ্রয়োজনীয় জিনিস, ভাঙা আসবাব বা আবর্জনা জমিয়ে না রাখাই ভালো। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ঘরের পরিবেশও গোছানো থাকে।
প্রধান দরজা রাখুন পরিচ্ছন্ন
বাড়ির প্রধান দরজাকে বাস্তুতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। দরজার সামনে ময়লা, আবর্জনা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে রাখবেন না। নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সন্ধ্যায় ধূপ বা প্রদীপ জ্বালানোর রীতিও অনেকে পালন করেন।
শনিবার তিলের তেলের প্রদীপ
শনিবার শনিদেবের উদ্দেশে তিলের তেলের প্রদীপ জ্বালানোর প্রচলন রয়েছে। অনেকেই বাড়ির দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে লোহার পাত্রে তিলের তেল দিয়ে প্রদীপ জ্বালান। এটি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার হিসেবে পালন করা হয়।
দান ও সেবায় গুরুত্ব দিন
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অসহায়, দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষকে সাহায্য করা শনিদেবকে সন্তুষ্ট করার অন্যতম উপায়। শনিবার সামর্থ্য অনুযায়ী কালো তিল, বিউলির ডাল, কালো বস্ত্র বা কম্বল দান করতে পারেন। তবে দান যেন আন্তরিকভাবে করা হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
পশুপাখিকে খাবার দিন
কাক, কুকুর বা গরুকে খাবার খাওয়ানোর রীতিও শনিদেবের উপাসনার সঙ্গে যুক্ত। শনিবার সামর্থ্য অনুযায়ী পশুপাখিকে অন্নদান করা যেতে পারে। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি জীবের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর ক্ষেত্রেও এই অভ্যাসের গুরুত্ব রয়েছে।
হনুমানের উপাসনা করুন
শনিদেবের কৃপা লাভের আশায় অনেকেই নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করেন। পাশাপাশি শনি স্তোত্র পাঠেরও প্রচলন রয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হনুমানের ভক্তদের উপর শনির বিশেষ কৃপা থাকে।
তবে শুধু টোটকা বা আচার নয়, শনির সঙ্গে সম্পর্কিত বিশ্বাসে সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিক জীবনযাপনকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই সাড়ে সাতি বা ধাইয়ার ভয় না পেয়ে নিজের কর্ম ও আচরণ ঠিক রাখার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
Vastu: বাড়ির এই কাজগুলিতে রুষ্ট হন রাহু! জন্মছকে শুভ থাকলেও ভোগ করতে হতে পারে কুফল
বিঃদ্রঃ উপরোক্ত বিষয়গুলি জ্যোতিষ ও বাস্তুসংক্রান্ত প্রচলিত বিশ্বাসের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। এগুলির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.